নারী নেত্রীর বাড়িতে নাবালিকা পরিচারিকার নিযুক্তি নিয়ে বিধানসভায় উষ্মা প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ মার্চ৷৷ নাবালিকা পরিচারিকার মৃত্যুর ঘটনায় প্রাক্তন এমডিসি সুমিত্রা দেববর্মার বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ একই সাথে নাবালিকা পরিচারিকা নিযুক্তির অপরাধে পুলিশ সুয়োমুটো মামলা কেন নিল না সে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন৷ কারণ, মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন নাবালিকা পরিচারিকা নিযুক্তিতে শ্রম আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে৷ তাই, পুলিশ সুয়োমুটো মামলা নিতেই পারত বলে জানিয়েছেন তিনি৷

বুধবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের অন্তিম দিনে উল্লেখ পর্বে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক আশিষ কুমার সাহা এবং বিশ্ববন্ধু সেনের জনস্বার্থে আনা নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ৩০ জানুয়ারি রাত নয়টায় টাকারজলা থানাধীন আমতলী এলাকার মানিক লাল দেববর্মার স্ত্রী সুমিত্রা দেববর্মার খবর পেয়ে টাকার জলা থানার ওসি তাঁর বাড়িতে যান এবং সেখানে গিয়ে দেখেন চান্দনী রিয়াং (১৩) বিছানায় শুয়ে রয়েছে এবং তাকে টাকারজলা সিএইচসি’র চিকিৎসক পুষ্পা দেববর্মা পরীক্ষা করছেন৷ সুমিত্রা দেববর্মাই চিকিৎসককে তার বাড়িতে ডেকে আনেন৷ ঐ নাবালিকাকে পরীক্ষা করে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে চান্দনী রিয়াংয়ের দেহ টাকারজলা থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়৷

মুখ্যমন্ত্রী জানান, তদন্তে দেখা গেছে ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা পার্শ্ববর্তী সবজি বাগানে কর্মরত ছিলেন৷ যা বাড়ি থেকে আধ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত৷ বাড়ি ফিরে সুমিত্রা দেববর্মাই প্রথমে ঘটনাটি দেখতে পান৷ পরবর্তীতে অভিযোগকারী সুমিত্রা দেববর্মাকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ঘটনা দেখার পর তার মৃতার বাড়িতে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন৷ কিন্তু যোগাযোগ না করতে পারার জন্য একজন ব্যক্তিকে মৃতার বাড়িতে পাঠনো হয় তার বাবাকে আনার জন্য৷ এসব কারণেই ঘটনা সম্পর্কে পুলিশকে খবর দিতে দেরি হয়৷ মুখ্যমন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, পরবর্তী সময় ৩১ জানুয়ারি টাকারজলার সিএইচসিতে কর্মরত চিকিৎসক পুষ্পা দেববর্মা ও ভিয়াস দেববর্মা মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করেন৷ ময়নাতদন্তের সমস্ত প্রক্রিয়াটি ভিডিওগ্রাফি করে রাখা আছে৷ চিকিৎসকেরা মৃতার শরীরের বিভিন্ন অংশ এবং পরিধেয় বস্ত্র ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করেন৷ ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ মৃতার পিতা খলরাম রিয়াংয়ের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মৃতার শরীরের বিভিন্ন অংশ এবং পরিধেয় বস্ত্র ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারি আগরতলায় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছে৷ ঐ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুমিত্রা দেববর্মার অভিযোগমূলে টাকারজলা থানায় একটি নির্দিষ্ট মামলা নথিভুক্ত হয়েছে এবং মামলার তদন্তের কাজ চলছে৷

নাবালিকা পরিচারিকা মৃত্যুর ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া বিবৃতিতে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক জানতে চান কোন ধারায় মামলা হয়েছে৷ কিন্তু এই প্রশ্ণে মুখ্যমন্ত্রীকে অনেকটাই বিব্রত দেখা গেছে৷ কারণ, ধারা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কোন তথ্য ছিল না৷ তবে, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৩ বছরের নাবালিকাকে কাজে নেওয়া ঠিক হয়নি৷ তাতে প্রশ্ণ উঠেছে, শ্রম দপ্তর এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি কেন৷ মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করে নেন যেহেতু আইন বর্হিভূত কাজ হয়েছে সেক্ষেত্রে পুলিশ চাইলেই সুয়োমুটো মামলা নিতে পারত৷ কারণ, শিশু শ্রমের ঘটনা জানতে পারলেই পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সুয়োমুটো মামলা নিতে পারে৷ কিন্তু ঐক্ষেত্রে পুলিশ মামলা কেন নেয়নি তা খোঁজ নেবেন বলে বিধানসভাকে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷