২৩ আগষ্ট আগরতলায় হিংসার তদন্ত রিপোর্ট পেশের দাবীতে বিরোধীরা সরব হলেন বিধানসভায়

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ মার্চ ৷৷ ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনার রহস্য উন্মোচন করলেন না মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ তিনি কেবল জানালেন, ঐদিন আগরতলা শহরে রাজনৈতিক দলের মিছিলকে কেন্দ্র করে সংগঠিত হিংসাশ্রয়ী কার্যকলাপের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার দ্বারা গঠিত ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত রিপোর্ট স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কাছে জমা পড়েছে৷ ঘটনার ৩৫ দিনের মাথায় তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে৷ মঙ্গলবার বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণের স্বল্পকালীন নোটিশে আনা প্রশ্ণের উত্তরে এই তথ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷
গত ১ অক্টোবর ২০১৬ সালে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত রিপোর্ট জমা পড়েছে৷ কিন্তু এই রিপোর্ট এখনই জনসমক্ষে আনা যাবে না৷ মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে তৃণমূল বিধায়ক প্রশ্ণ তুলেন কি কারণে এই রিপোর্ট জনসমক্ষে আনা যাবে না৷ মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঐদিনের ঘটনায় পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ ঐ মামলাগুলির তদন্ত চলছে৷ সুতরাং তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ঐ ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে আনা যাচ্ছে না৷ তাতে, বিধায়ক সুদীপ বর্মণ সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত রিপোর্টটি জনসমক্ষে আসলে মামলায় প্রভাব ফেলতে পারে সেটাই কি কারণ৷ এই কথা জানতে চেয়ে সুদীপ বাবু আরো বলেন, তাহলে কি পুলিশের ওপর সরকারের আস্থা নেই৷ ঐ ঘটনা দাঙ্গা বাধানোর জন্য নাকি এর পেছনে অন্য কোন রহস্য লুকিয়ে রয়েছে তা রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি রাজ্যবাসীরও জানা দরকার৷ তাতে, মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত রিপোর্ট ঐ মামলাগুলিতে প্রভাব ফেলবে কি ফেলবে না এমন কোন কিছুই উল্লেখ করিনি৷ তবে, যেহেতু ঐ ঘটনার সাথে জড়িত পাঁচটি মামলার তদন্ত চলছে, সেক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত রিপোর্ট এখনই জনসমক্ষে নিয়ে আসা সম্ভব নয়৷ মুখ্যমন্ত্রী ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করতে অনুরোধ জানান৷
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে, কোন ভাবেই আশ্বস্ত হননি তৃণমূল বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ৷ তিনি পাল্টা যুক্তি তুলে ধরে বলেন, জিরানিয়াতেও রাজনৈতিক সংঘর্ষের সময় রবি ও লিটন নামে দুই উপজাতি যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হয়েছিল৷ সেই তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে আনা হয়েছে৷ এই যুক্তি দেখিয়ে সুদীপবাবুর অভিযোগ, রাজ্য সরকার জেনে শুনে ২৩ আগস্ট ২০১৬’র ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত রিপোর্টটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করছে৷ তিনি দাবি করেন, ঐ ঘটনার পেছনে কি লুকিয়ে রয়েছে তা সকলকে জানতে হবে৷ তখন কংগ্রেস বিধায়ক রতন নাথও এবিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন৷ তিনি বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের রিপোর্ট সম্পর্কে সরকার অবগত আছে৷ তাহলে মানুষ কেন ঐ রিপোর্ট সম্পর্কে কোন কিছুই জানবে না, মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ণ ছঁুড়ে দেন তিনি৷ তাঁর দাবি, এই রিপোর্টটি নিয়ে গোপনীয়তার কিছু নেই৷ এরই সাথে তিনি শাসক দলকে খোঁচা দিয়ে বলেন, মানুষের অভিযোগ ঐ ঘটনার পেছনে শাসক দলের ষড়যন্ত্র রয়েছে৷
মুখ্যমন্ত্রী এবিষয়ে বলেন, ঐ ঘটনার পেছনে শাসক দলের ষড়যন্ত্র রয়েছে সেটা আপনাদের অনুমান, এই বিষয়ে কোন কিছুই বলার নেই৷ তবে, ম্যাজিস্ট্রেট তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে আনার বিষয়ে আইন দপ্তরের সাথে কথা হয়েছে৷ মামলাগুলির তদন্ত শেষ হওয়ার আগে রিপোর্ট জনসমক্ষে আনা সম্ভব নয়৷ তাই ঐ রিপোর্টের জন্য অপেক্ষাই করতে হবে৷ এদিন বিরোধীরা ২৩ আগস্ট ২০১৬’র ঘটনা ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে নিয়ে আসার জন্য নানাভাবে চাপ দিলেও মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যেই অনঢ় রয়েছেন৷