নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ মার্চ৷৷ শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা এবং পেনশন খাতে বরাদ্দ অর্থ অন্য খাতে খরচ করা হয়েছে বলে বিধানসভায় স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা৷ অর্থমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তিতে বিরোধীরা কর্মচারী ও পেনশনার্সদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়া নিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন৷ চাপের মুখে বেসামাল অর্থমন্ত্রী অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে এদিন কার্যত বেঁচে যান৷
মঙ্গলবার বিধানসভায় বিধায়ক রতনলাল নাথ জানতে চান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিধানসভায় তারকাচিহ্ণ বিহীন এক প্রশ্ণের উত্তরের প্রেক্ষিতে দেখা যায় কমিটেড এক্সপেনডিচার বাবদ ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে যে অর্থ ধরা হয়েছিল সে বরাদ্দকৃত অর্থ সম্পূর্ণ ব্যয় হয়নি এর পেছনে কারণ কি৷ প্রশ্ণের জবাবে অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা জানান, ঐ অর্থ বছরগুলিতে রাজ্যের বিভিন্ন উৎস থেকে আনুমানিক যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যাবে বলে ধরা হয়েছিল, বছরের শেষে প্রকৃতপক্ষে তার থেকে অনেক কম অর্থ পাওয়া গেছে৷ স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন খাতে ব্যয় সংকোচন করতে হয়েছে৷ বছরের শেষে প্রকৃত অর্থ প্রাপ্তি এবং ব্যয় সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উক্ত বছরের এজি থেকে প্রাপ্ত ফিনান্স একাউন্টস’র মাধ্যমে বিধানসভায় ইতিমধ্যেই পেশ করা হয়েছে৷
অর্থমন্ত্রীর জবাবে বিধায়ক রতনলাল নাথ ভীষণ অবাক হন এবং প্রশ্ণ করেন কমিটেড এক্সপেনডিচার থেকে অব্যয়িত অর্থ কর্মচারীদের ডিএ দেওয়া হল না কেন? রতনবাবু বলেন, কমিটেড এক্সপেনডিচার অর্থ হল দায়বদ্ধ ব্যয়৷ কর্মচারীদের বেতন এবং পেনশন খাতে কত অর্থ ব্যয় হবে তা বছরের প্রথমেই জানা যায়৷ তিনি এক তথ্য তুলে ধরে জানান, রাজ্য সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭১১ কোটি ২৪ লক্ষ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২৯০ কোটি ৮০ লক্ষ এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৫৫ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা কমিটেড এক্সপেনডিচারের অব্যয়িত রয়েছে৷ তাতে তিন বছরে মোট অব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ১২৫৭ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা৷ এফআরবিএম অনুযায়ী কর্মচারীদের বেতনভাতা ও পেনশনখাতে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৪৮৮ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ২২৬ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা এবং ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২১৬ কোটি ৮৮ লক্ষ টাকা অব্যয়িত রয়েছে৷ এই তিনবছরে মোট অব্যয়িত অর্থের পরিমাণ ৯৩২ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা৷ তিনি বলেন, কর্মচারী ও পেনশনার্সদের এক শতাংশ ডিএ মিটিয়ে দিতে প্রয়োজন ২৪ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা৷ সেক্ষেত্রে কর্মচারী ও পেনশনার্সদের ৩৮ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়া সম্ভব ঐ অব্যয়িত অর্থে৷ কিন্তু তাদের ডিএ মিটিয়ে দেওয়া হল না কেন প্রশ্ণ তুলেন রতনবাবু৷ তখনই অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা জানান, আয় কম ছিল, তাই অব্যয়িত অর্থ অন্য খাতে খরচ করা হয়েছে৷ অর্থমন্ত্রীর এই স্বীকারোক্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ বলেন, একথা স্পষ্ট যে, কর্মচারী ও পেনশনার্সদের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিতে টাকার অভাব নেই৷ কিন্তু এক খাতে বরাদ্দ অর্থ অন্যখাতে ব্যয় করা হয়েছে৷ সুদীপবাবু জানতে চান, কোন আইনে কমিটেড এক্সপেনডিচার খাতে বরাদ্দ অর্থ অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে৷ অর্থমন্ত্রী ভানুলাল সাহা এপ্রশ্ণের সুনির্দিষ্ট কোন উত্তর দিতে পারেননি৷ তিনি যুক্তি দিয়ে বুঝাতে চেষ্টা করেন, বাজেটে যা ধরা হয় প্রাপ্তি হিসেবে তা পাওয়া যায়নি৷ কিন্তু অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বিরোধীরা আশ্বস্ত হতে পারেননি এবং কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ কেন মিটিয়ে দেওয়া হল না সে বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন৷ তখন ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন অধ্যক্ষ রমেন্দ্রচন্দ্র দেবনাথ৷ প্রশ্ণোত্তর পর্বের সময় শেষ হয়ে গেছে একথা বলে আলোচনা এখানেই শেষ করে দেন এবং প্রশ্ণোত্তর পর্বের সমাপ্তি ঘোষণা করেন৷ তাতে এদিন বিধানসভায় কর্মচারী ও পেনশনার্সদের বকেয়া ডিএ নিয়ে অর্থমন্ত্রী অধ্যক্ষের হস্তক্ষেপে বিরোধীদের তোপের মুখ থেকে বেঁচে যান৷
2017-03-15

