নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ মার্চ৷৷ সমানাধিকার ও মহিলাদের সংরক্ষণ একই সাথে চাইছেন সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য

তথা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ সোমবার গণতান্ত্রিক নারী সমিতির রাজ্য কমিটির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী আক্ষেপের সুরে বলেন, নারীদের যথোপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নেই দেশের মধ্যে৷ সংরক্ষণ ব্যবস্থায় গন্ডি বেঁধে দেওয়া হয়েছে৷ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সংরক্ষণ বাড়ানোর জন্য বহু দাবি জানানো সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার তাতে পাত্তা দিচ্ছে না৷ মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, গণতন্ত্রের মানেই হল সমানাধিকার৷ তাই দেশে নারী ও পুরুষের সমানাধিকার হওয়া উচিৎ৷ কিন্তু, দেশে তা মানা হচ্ছে না৷
সংরক্ষণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে৷ একদিকে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করছেন নারী পুুরুষের সমানাধিকার থাকতে হবে৷ অন্যদিকে, নারীদের সংরক্ষণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জোর সওয়াল করলেন৷ মূলত, সংবিধান মোতাবেক সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে পিছিয়ে পড়া জাতিগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য৷ সংবিধান প্রণেতারা ভারতের সংবিধান রচনা করে দশ বছরের জন্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু রাখার জন্য বলেছিলেন৷ কিন্তু সে সংরক্ষণ ব্যবস্থা দেশে এখনো চালু রয়েছে৷ এনিয়ে ইতিপূর্বেও বহু আলোচনা হয়েছে৷
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত এবং পুর নিগম ও পুর পরিষদের নির্বাচন গুলিতে মহিলাদের সংরক্ষণ বাড়ানো হয়েছে৷ কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে মহিলা সংরক্ষিত আসন বাড়ানো যাচ্ছে না৷ কারণ, কেন্দ্রীয় সরকার আইন বদল না করলে বিধানসভায় মহিলা সংরক্ষিত আসন বাড়ানো রাজ্যের পক্ষে সম্ভব নয়৷ মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, সুপ্রিমকোর্টের নির্দেশ নারী ও পুরুষকে সমান কাজে সমান বেতন দিতে হবে৷ কিন্তু এই ধরনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহণ করেছে এমন কোন তথ্য জানা যায়নি৷ চাকুরিক্ষেত্রে মহিলাদের ৫০ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ রাখা যাবে না৷
একদিকে নারী ও পুরুষের সমানাধিকার নিয়ে সওয়াল, অন্যদিকে মহিলাদের সংরক্ষণ নিয়ে জোরালো দাবি, এই দুই মিলিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে৷ যদি সমানাধিকার দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে সংরক্ষণ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা কোথায় সে প্রশ্ণই উঠেছে৷
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে মহিলাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে বামফ্রন্ট সরকার কার্পণ্য করছে না৷ তাতে ধারণা করা হচ্ছে, রাজ্যে নারী ও পুরুষের সমানাধিকার রয়েছে৷ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মহিলাদের সংরক্ষণ নিয়ে এত সওয়াল কেন করলেন সে বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে না৷ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের পরিস্থিতির নিরিখে নারী ক্ষমতায়নের প্রশ্ণে সংরক্ষণ ব্যবস্থা আরো জোরদার হওয়ার জন্যই এদিন মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন৷ কিন্তু, মহিলাদের সংরক্ষণ বাড়ানো হলে নারী ও পুরুষের সমানাধিকারে বৈষম্যের সৃষ্টি হবে বলেই মনে করছেন তথ্যভিজ্ঞ মহল৷

