গুয়াহাটি, ০৭ মার্চ, (হি.স.) : শিলাপথারে গতকাল সোমবার বিকেলে রাজ্যের প্রথমসারির ছাত্র সংগঠন সারা অসম ছাত্র সংস্থা (আসু)-র কার্যালয়ে বাঙালি উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতি আয়োজিত মিছিলের কতিপয় অংশগ্রহণকারী ভাঙচুর কাণ্ডকে দুৰ্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন মন্ত্ৰী হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা। বলেন, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে কখনও আপস করা হবে না। তবে অপ্রত্যাশিত এই ঘটনার পিছনে তৃতীয় শক্তি হাত আছে বলে মনে করছেন, জানান রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী শর্মা। বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত করতে একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি। দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, প্রয়োজনে সংগঠনকে (বাঙালি উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতি) নিষিদ্ধ করতেও ভাববে না সরকার।
এখানে উল্লেখ করা ষেতে পারে গতকাল বিকেলে ধেমাজি জেলার শিলাপথার শহরে বাঙালি উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতি এক সমাবেশের আয়োজন করেছিল। সমাবেশের পর শহরের প্রধান প্রধান রাস্তা ধরে এক মিছিলও বের করা হয়। তখন স্থানীয় আসু কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে কতিপয় দুর্বৃত্ত মিছিলকে লক্ষ্য করে বেশ কিছু আপত্তিজনক মন্তব্য করে। মন্তব্যকারীরা আসুকর্মী বলে সন্দেহ করে মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ ছাত্র সংগঠনটির কার্যালয়ে গিয়ে ভাঙচুর চালান। সে সময় রাস্তায় বেশ কয়েকটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়।
পরিস্থিতি বিগড়ে যাচ্ছে দেখে পুলিশকে প্রথমে লাঠিচার্জ, পরে কাঁদানে গ্যাসও ছুঁড়তে হয়েছে। এতে মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা যে যার পথে চলে গেলেও রাতের দিকে ফের শহরের দোকানপাটে কতিপয় দুর্বত্ত এসে হামলা চালায়।
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে শিলাপথারের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য এলাকার পরিস্থিতি বিগড়ে যেতে বসে। আসু উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য শীঘ্র তাঁর সংগঠনের কার্যালয়ে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে বিহীত ব্যবস্থা না নিলে রাজ্যের পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ করে তোলা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন।
এদিকে অসম পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, শিলাপথারে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত করতে পুলিশপ্রধান মুকেশ সহায়কে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। রাজ্যের সচেতন মহলও উভয় পক্ষকে বসে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে আহ্বান জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত রাজ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। এমতাবস্থায় অপ্রত্যাশিত এই পরিস্থিতি পরীক্ষার্থীদের ওপর প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, হিন্দু বাঙালিদের নাগরিকত্ব প্রদানকে কেন্দ্র করে গতকাল শিলাপথারে নিখিল ভারত বাঙালি উদ্বাস্তু সমন্বয় সমিতি এক সমাবেশের আয়োজন করেছিল। এতে প্রায় ২০ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। অনেকে মনে করছেন, রাজ্যের অসমিয়া ও বাঙালি সম্প্রীতির মধ্যে চির ধরাতে গতকালের পরিস্থিতি কতিপয় স্বার্থান্বেষী ধুরন্ধরের মস্তিষ্ক কাজ করেছে। স্বার্থান্বেষী ওই চক্র রাজ্যের বিজেপি জোট সরকারের বদনাম করতেও কাজ করছে বলে মহলটি মনে করছে।
2017-03-07

