নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ মার্চ৷৷ নানাভাবে চাপ দেওয়া সত্ত্বেও রাজ্য সরকার বিভিন্ন কাজে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ অর্থের

ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট দিতে পারছে না৷ যার কারণে, অর্থ বরাদ্দ আটকে দেওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা থাকে না৷ এর ফলে রাজ্য আয়ুষের খাতে ৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ পায়নি৷ বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই কথা বলেন আয়ুষ মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক৷ এবিষয়ে সন্ধ্যায় তিনি মহাকরণে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরীর সাথে সাক্ষাৎ করেছেন৷ সৌজন্যমূলক এই সাক্ষাৎকারে মূল আলোচ্য বিষয় ছিল কেন্দ্রীয় অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মানোন্নয়ন৷ বিজেপি রাজ্য প্রভারী সুনীল দেওধর জানিয়েছেন, ঐ বৈঠকে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বাদল চৌধুরী কেন্দ্রীয় আয়ুষ মন্ত্রীকে শীঘ্রই বরাদ্দ অর্থের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট তুলে দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন৷ সম্ভবত, আগামী ২৫ মার্চ নয়াদিল্লিতে আয়ুষ মন্ত্রকের উদ্যোগে বিভিন্ন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের নিয়ে যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, সে বৈঠকে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাদ্দ অর্থের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট জমা দেবেন৷
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে শ্রীনায়েক রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে আবারও সুর চড়িয়েছেন৷ মঙ্গলবার কৈলাসহরে তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেছিলেন, রাজ্যের আটটি জেলাতে কেন্দ্রীয় সরকার আয়ুষ হাসপাতাল খুলতে চাইলেও রাজ্য সরকারের তরফে কোন প্রস্তাব আজ অব্দি পাঠানো হয়নি৷ একই বিষয়টি নিয়ে এদিনও তিনি উষ্মা প্রকাশ করেন৷ তাঁর মতে, কেন্দ্রের সমালোচনা ছাড়া রাজ্য সরকার আর কোন কিছুই করতে পারে না৷ প্রত্যেক জেলায় আয়ুষ হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য ৪০ কোটি টাকা মঞ্জুর হয়েছে৷ অথচ রাজ্য সরকার কোন প্রস্তাব না পাঠানোতে সেই মঞ্জুরিকৃত অর্থ জনগণের কাছে ব্যবহৃত হচ্ছে না৷ কেন্দ্র ঢালাও অর্থ দিলেও উন্নয়নের প্রশ্ণে রাজ্য সরকার কোন কিছুই করতে পারেনি৷ কেবল মিথ্যা প্রচার করে চলেছে, কটাক্ষ শ্রীনায়েকের৷
এদিন তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, ২০১৫-১৬ সালে যে অর্থ রাজ্যকে দেওয়া হয়েছিল তার ব্যবহারের প্রমাণপত্র আজ অব্দি দেওয়া সম্ভব হয়নি রাজ্য সরকারের৷ ঐ বছর আয়ুষ মন্ত্রক থেকে রাজ্যকে ৪ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছিল৷ ঐ টাকার ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট এখনো মিলেনি৷ যার কারণে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আয়ুষ মন্ত্রক ৬ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করতে চাইছিল৷ সেটা খুইয়েছে রাজ্য সরকার৷ তাঁর সাফ কথা, কেন্দ্রীয় অর্থের ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট না দিলে অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোন রকম সহানুভূতি দেখানো হবে না৷ হিসেব না দিলে টাকা পাঠানো হবে না৷
এবিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, রাজ্য কি কারণে হিসেব দিতে পারছে না সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়েছে কিনা৷ জবাবে শ্রীনায়েক বলেন, বহুবার এবিষয়ে চাপ দেওয়া হয়েছে৷ কিন্তু রাজ্য সরকার কোন কিছুই বলছে না এবং ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেটও দিচ্ছে না৷ তাই বরাদ্দ অর্থে কাঁটছাট করা হচ্ছে৷

