নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ ফেব্রুয়ারি৷৷ মাছে ফরমালিন পাওয়া গেছে৷ স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে নমুনা সংগ্রহ করার পর

মাছে ফরমালিন রয়েছে প্রমাণ মিলেছে৷ ৪০টি মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হলে তার মধ্যে ১১টিতে দূষণ পাওয়া গেছে৷ খাদ্য সুরক্ষা আইনের আওতাধীন প্রক্রিয়ায় এর বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে৷ মঙ্গলবার বিধানসভায় বিধায়ক আশিস কুমার সাহা এবং বিধায়ক প্রণয়জিৎ সিং রায়ের দৃষ্টি আকর্ষণী নোটিশের জবাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বাদল চৌধুরী এ তথ্য দিয়েছেন৷ পাশাপাশি জানিয়েছেন এই ১১ টি ফরমালিনযুক্ত নমুনার মধ্যে ৬টি আখাউড়া চেকপোস্ট, ৩টি বটতলা বাজার ও বাকি ২টি মহারাজগঞ্জ বাজার থেকে সংগৃহীত৷ তিনি আরো জানিয়েছেন, ভিন রাজ্য এবং বাংলাদেশ থেকে আসা মাছের নমুনায় ফরমালিন পাওয়া গেছে৷
মাছে বিষাক্ত ফরমালিন ব্যবহার নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে একাধিক খবর প্রকাশিত হওয়ার পর স্বাস্থ্য দপ্তর উদ্যোগ নেয় ফরমালিন যুক্ত মাছ চিহ্ণিত করার বিষয়টি৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রী বাদল চৌধুরী মহাকরণে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকে ফরমালিন যুক্ত মাছ খঁুজে বের করার বিষয়ে কর্মপন্থা চূড়ান্ত করেন৷
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এদিন জানান, স্বাস্থ্য দপ্তরের খাদ্য নিরাপত্তা শাখা আগরতলার স্থানীয় বাজারগুলোতে বিক্রি হওয়া মাছ সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীতে উচ্চমাত্রায় ফরমালিন ব্যবহার এবং কিছু বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্যের উপস্থিতি খঁুজে পাওয়ার পর কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরো জানিয়েছেন, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা বিধি বাস্তবায়নের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে৷ সকল খাদ্য পরিদর্শকদের রাজ্যের স্থানীয় বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে তা ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷
এদিন তিনি জানান, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে আসা মাছে ফরমালিন ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে৷ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এখন থেকে খাদ্য সামগ্রী পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখা হবে৷ তিনি রাজ্যবাসীর উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, বাজারে মাছ ক্রয় করার সময় ফরমালিন রয়েছে সন্দেহ হলেই তা পরীক্ষা করার জন্য নিয়ে আসুন৷
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্থানীয় বাজারে পাওয়া সামগ্রীর নমুনা আগামীদিনেও সংগ্রহ এবং পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে৷ বিষাক্ত মাছ এবং মানব দেহে ক্ষতিকারক রাসায়নিক দ্রব্য অন্যান্য দ্রব্যে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের দোষী সাব্যস্ত করে খাদ্য নিরাপত্তা এবং গুণবত্তা আইন-২০০৬ মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷ এদিকে, খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও এই কাজে প্রয়োজনীয় সংখ্যক অফিসারের ঘাটতি রয়েছে বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি বলেন, রাজ্যে ফুড এনালিস্টেরও অভাব রয়েছে৷ বহুবার আবেদনপত্র আহ্বান করেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না৷ তাই অবসরপ্রাপ্ত এক আধিকারিককে দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে৷ এদিন তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অফিসারদের ঘাটতির বিষয়টি চিন্তা করে প্রত্যেক এসডিএমওদের খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে৷ শুধু তাই নয়, জেলাস্তরে সমস্ত জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিকদেরও ঐ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে৷ তাঁরা বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে পারবেন৷
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে, বিরোধী সদস্য আশিস কুমার সাহা, গোপাল রায় এবং সুদীপ রায় বর্মণ বিলম্বে ফরমালিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পেছনে কি কারণ তা জানতে চেয়েছেন৷ পাশাপাশি তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়া ক্রমাগত জারি রাখতে হবে৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন থেকে প্রতিনিয়ত এই প্রক্রিয়া জারি থাকবে৷ পাশাপাশি তিনি সকলের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন৷

