পিস্তল উদ্ধার কান্ডে নয়া মোড়, পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ

SEEL GUN PICনিজস্ব প্রতিনিধি, চুড়াইবাড়ি, ২৭ জানুয়ারি৷৷ চুড়াইবাড়ি থানা এলাকার পিস্তল কান্ডে নতুন মোড়৷ গত ২৪ জানুয়ারি মাঝরাতে চুড়াইবাড়ি থানার পুলিশ গোপন সূত্রের ভিত্তিতে বিক্রয়কর অফিস লাগোয়া আফতাব আলির বাড়িতে হানা দিয়ে একটি পিস্তল সহ তিন কার্টুন নেশা জাতীয় কফসিরাপ উদ্ধার করেছিল৷ পরদিন সকালবেলা সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা খবর পেয়ে বিষয়টি জানতে গেলে চুড়াইবাড়ি থানা কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকৃত পিস্তল এবং কফসিরাপ সিল করা অবস্থায় দেখানো হয়েছিল সাংবাদিকদের৷ সেই অনুযায়ী সাংবাদিকরা বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াতে সংবাদ প্রচার করেছিল৷ সংবাদ সম্প্রচার হওয়ার পর আফতাব আলির পরিবারের লোকজন সংবাদ কর্মীদের ডেকে পুরো বিষয়টি খুলে বলেন৷
উল্লেখ্য যে ২৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাতে আফতাব আলির বাড়ি থেকে যে পিস্তল এববং নেশা জাতীয় কফ সিরাপ উদ্ধার করেছিল পুলিশ তা একটি প্রতিক্রিয়াশীল চক্র তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ৷ কফসিরাপ গুলি বাড়ির পেছনে রেখে চুড়াইবাড়ি থানাকে খবর দেয়৷ সে মোতাবেক পুলিশ সে কফসিরাপ গুলি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়৷ এমনটাই জানালেন আফতাব আলির স্ত্রী আলিয়া বেগম৷ তিনি আরো বলেন পুলিশ যখন তাদের বাড়িতে হানা দেয় তখন কোন পুরুষ মানুষ ছিলেন না বাড়িতে৷ হঠাৎ রাত দশটা নাগাদ পুলিশ এসে ঘরের পেছন দিক থেকে তিনটি কার্টুন টেনে এনে ঘরের ভেতরে কার্টুনের সামনে উনাকে দাঁড় করিয়ে ছবি উঠাতে বললেন পুলিশ কর্মীরা৷ তখন ভয়ে আতঙ্কে বয়স্ক মহিলা ঘাবড়ে যান৷ শুরু হয় গোটা ঘর জুড়ে পুলিশের তল্লাশি৷ তল্লাশিকালে পুলিশ একটি এয়ার গান উদ্ধার করে৷ এবিষয়ে আফতাব আলির ছেলে জয়নাল হুসেনকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় এয়ার গানটি সে বাড়িতে পাখি এবং বাদুর তাড়ানোর জন্য এনে রেখেছিল৷ যার সম্পূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে তার কাছে৷ সে নাকি কলকাতা থেকে পোস্ট মারফতে চারশো টাকা দিয়ে ক্রয় করেছিল৷ পোস্ট অফিসে আসা সেই কোরিয়ারেরDeclaretion এ উল্লেখ ছিল (As per letter No-1316/A, dated -05/07/2011) From deputy comissioner of police. Arms act dept. Lal bazar police H.Q Kolkata. সে আরো বলে পাখি তাড়ানোর এয়ার গানটি তাদের হলেও উদ্ধারকৃত কফসিরাপের তিনটি কার্টুন সম্বন্ধে তারা কিছুই জানেন না৷ ইচ্ছাকৃত তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে এলাকার প্রভাবশালী কিছু ফেন্সি ব্যবসায়ী৷ তাহলে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রচারিত হয়েছে যে সেটা ৯ এম এম পিস্তল৷ পুলিশ কেনই বা এরকম করতে গেল? জয়নাল হুসেন আরো বলেন যে, কিছু দুষৃকতীকারিরা কিছুদিন পূর্বে তাকে গাড়ি চাপা দিয়ে প্রাণে মারারও চেষ্টা করেছিল৷ তাহলে পুলিশ কি সেই চক্রটির হয়েই তাদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছে? পুলিশের উদ্ধারকৃত এয়ার গানটি যদি ৯ এমএম পিস্তল হয়ে থাকে তাহলে আইন অনুযায়ী সাজা গ্রহণ করতেও রাজি অভিযুক্ত আফতাব আলির পরিবার৷ অন্যথায় পুলিশের বিরুদ্ধে মামলায় যেতে পারে তারা৷ অপরদিকে এই বিষয়ে পুলিশের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে চুড়াইবাড়ি থানার ওসি বিজয় সেন বলেন যে তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা যাবে না৷ ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত চলছে এবং আগ্ণেয়স্ত্র বিশেষজ্ঞ ও ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পরই বলা সম্ভব যে সেটা ইন্ডিয়ান ৯ এমএম পিস্তল না পশুপাখী তাড়ানোর এয়ার গান৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *