নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ জানুয়ারি৷৷ শিশুরা কেমন আছে প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে৷ এখন থেকে খোঁজ খবর নেবে জাতীয় কমিশন শিশু অধিকার রক্ষা(ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস)৷ তার পেছনে অন্যতম মুখ্য কারণ সারা দেশেই ক্রমাগত বেড়ে ওঠা বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ কমিশন এক নির্দেশিকায় বলেছে বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক শিক্ষিকা এবং কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে হবে৷ হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে শিশু সংক্রান্ত অপরাধে তারা জড়িত কিংবা সাজাপ্রাপ্ত কিনা৷ শিক্ষাদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কমিশনের তরফে এই মর্মে রাজ্যকেও চিঠি পাঠানো হয়েছে৷ বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে কমিশনের নির্দেশিকা পালন করার বিষয় নিশ্চিত করতে রাজ্যকে বলা হয়েছে৷
কমিশনের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোন শিক্ষক কিংবা কর্মী নিয়োগে বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির কর্তৃপক্ষরা তাদের পুলিশ ভ্যারিফিকেশন অবশ্যই করাতে হবে৷ মূলত, ৩ থেকে ৬ বছর পর্যন্ত শিশুদের প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশুনা হয়৷ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের ওপর অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে৷ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে বলে কমিশন মনে করছে৷ তাই শিশু সুরক্ষায় এই পথ নিতে হয়েছে বলে কমিশনের জনৈক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন৷ কমিশনের নির্দেশিকা মোতাবেক কোন শিক্ষক কিংবা কর্মী যাদের বিরুদ্ধে পক্সো আইন ২০১২, জুভেনাইল জাস্টিস আইন ২০১৫, শিশু শ্রম আইন ১৯৮৬, শিশু শ্রম আইনী সংশোধনী ২০১৬ মোতাবেক মামলা রয়েছে কিংবা সাজা কাটিয়েছেন তাদেরকে বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ করা যাবে না৷ এবিষয়ে শিক্ষক শিক্ষিকা কিংবা কর্মীদের হলফনামা দিতে হবে নিয়োগের আগে৷ সাথে তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক করেছে কমিশন৷ এরই পাশাপাশি কমিশন বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির উপরও খড়গ ঝুলিয়ে রেখেছে৷ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে কোন বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুর ওপর শারীরিক কিংবা মানসিক নির্যাতন চালানো হলে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষা অধিকার আইন ২০০৯’র ধারা ১৭(২) মোতাবেক ঐবিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
নতুন করে বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয় শুরু করার ক্ষেত্রেও কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে৷ পাশাপাশি বিদ্যালয় শুরু করার ক্ষেত্রে কমিশনের তরফে সরেজমিনে খতিয়ে দেখে সন্তোষ্ট হলেই আবেদন মঞ্জুর করা হবে৷ এক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে কমিশন৷ বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুরক্ষা ব্যবস্থায় সিসিটিভি, আগুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বাউন্ডারি ওয়াল, সঠিক ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা, ছেলে ও মেয়ে এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক বিশ্রামালয়, নিরাপদ পানীয় জল এবং কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও রাখা বাধ্যতামূলক করেছে কমিশন৷
শিশুদের প্রাক্ প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রেও সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে কমিশন৷ প্রতিটি সুকলে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা পড়াশুনার জন্য, সাথে বইপত্র এবং লাইব্রেরি, প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সাথে ওষুধপত্র এবং হাজিরা খাতা রাখাও বাধ্যতামূলক করেছে কমিশন৷ এর বাইরে থাকতে হবে শিক্ষক ও অভিভাবকদের এসোসিয়েশন৷ যেখানে ৭৫ শতাংশ হবেন অভিভাবকরা৷ তার মধ্যে ৫০ শতাংশ রাখতে হবে মায়েদের জন্য৷ বাকি ২৫ শতাংশ শিক্ষক শিক্ষিকারা৷
নির্দেশিকা অমান্য করলে ব্যবস্থা কি নেওয়া হতে পারে, সে বিষয়ে কমিশনের জনৈক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, শিক্ষক শিক্ষিকা এবং কর্মী নিয়োগে পুরো দায়ভার প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিকেই বহন করতে হবে৷ কোথাও কোন গাফিলতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ এমনকি বিদ্যালয়টি নিষিদ্ধ ঘোষণা হতে পারে৷ ঐ শীর্ষ আধিকারিকের মতে সারা দেশে বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিকে নিয়ন্ত্রণে তেমন কোন ব্যবস্থা ছিল না৷ শিশুদের উপর অপরাধের বহু অভিযোগ ইতিমধ্যেই কমিশনে জমা পড়েছে৷ তাই এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন৷
তাতে, রাজ্যেও বহু বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি ধাক্কা খাবে৷ কারণ, কমিশনের নির্দেশিকা মোতাবেক পরিকাঠামো অনেক বিদ্যালয়েই নেই৷ পাশাপাশি রাজ্য সরকারেরও দায়িত্ব বেড়ে গেল৷ কারণ, বেসরকারি প্রাক্ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির উপর এখন থেকে ক্রমাগত নজরদারি চালাতে হবে রাজ্য সরকারকেও৷
2017-01-13