সুলভ মূল্যে ওষুধ পেতে কেন্দ্রের সুযোগ লুফে নিল রাজ্য, ক্যান্সার চিকিৎসা সাধ্যের মধ্যে আনতে চালু হল অমৃত ফার্মেসি

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১২ জানুয়ারি৷৷ সাধ্যের মধ্যে চিকিৎসার লক্ষ্যে রাজ্যে শুরু হল অমৃত ফার্মেসি৷ এখন রাজ্যবাসী

বৃহস্পতিবার অমৃত ফার্মেসির উদ্বোধন বিভিন্ন ঔষুধ দেখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী৷ নিজস্ব ছবি৷
বৃহস্পতিবার অমৃত ফার্মেসির উদ্বোধন বিভিন্ন ঔষুধ দেখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী৷ নিজস্ব ছবি৷

ক্যান্সার সহ দুরারোগ্য ব্যাধির চিকিৎসায় ওষুধ সুলভ মূল্যে পাবেন৷ বিপিএল পরিবার বিনামূল্যে ওষুধ নিতে পারবেন৷ ক্যান্সার চিকিৎসায় এবছর থেকে প্রতিটি বিপিএল রোগী ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ওষুধ ক্রয়ে কোন অর্থ খরচ করতে হবে না৷ এপিএল পরিবারদেরও সুবিধা দেওয়া হবে এই ফার্মেসি থেকে বাজার মূল্যের ২০ থেকে ৯০ শতাংশ কম দামে এখানে সমস্ত ওষুধ এবং চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিভাইস এপিএল রোগীরা কিনতে পারবেন৷ এছাড়াও চিকিৎসাক্ষেত্রে খরচ বহনের মাত্রা লাঘব করার ক্ষেত্রে এই ফার্মেসি থেকে আরো কয়েকটি সুযোগ সুবিধা মিলবে৷ অত্যাবশকীয় ওষুধ এবং অতিরিক্ত ওষুধ বা ডিভাইস সরকারি হাসপাতালগুলি তাদের প্রয়োজনমত চাহিদার তালিকা দিলে সে সমস্ত ওষুধেরও যোগান দেওয়া হবে এই ফার্মেসি থেকে৷ রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবায় এক ঐতিহাসিক দিন বলে মানলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরীও৷ অমৃত ফার্মেসির উদ্বোধন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, বহু রোগী এই ফার্মেসির কারণে উপকৃত হবেন৷
ক্যান্সার চিকিৎসায় বিশেষ করে কেমোথেরাপির ব্যয়ভার বহন করা নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে মূল চ্যালেঞ্জ৷ কিন্তু অমৃত ফার্মেসি থেকে বহুমূল্যের ওষুধ খুবই কম দামে রোগীরা পাবেন৷ অমৃত ফার্মেসি থেকে প্রাপ্ত একটি তালিকা থেকে জানা গেছে, এমনও ওষুধ রয়েছে যার বাজারমূল্য ২২ হাজার ৬১৪ টাকা৷ কিন্তু অমৃত স্টোর্স থেকে প্রায় অর্ধেক দামে ১১ হাজার ৫৭৬ টাকায় ওষুধটি পাবেন রোগীরা৷ কেমোথেরাপির ক্ষেত্রে একটি ইনজেকশনের বাজারমূল্য ২০ হাজার টাকা৷ অমৃত ফার্মেসি থেকে সেই ওষুধ ৬৯ শতাংশ ছাড়ে ৬ হাজার ২৮৮ টাকা দিয়ে রোগীরা কিনতে পারবেন৷ এছাড়াও তালিকায় ক্যান্সার চিকিৎসায় বিভিন্ন ওষুধ সুলভমূল্যে পেয়ে যাবেন রোগীরা৷ শুধু তাই নয়, হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন কিট এই ফার্মেসি থেকে পাওয়া যাছে৷ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে দিল্লির এইমস হাসপাতালে সর্বপ্রথম অমৃত ফার্মেসি চালু করেন৷ তখনই ভারত সরকার সিদ্ধান্ত নেয় জনসাধারণের সুবিধার্থে দেশের ২৭টি রিজিওনাল ক্যান্সার হাসপাতালে একটি করে অমৃত ফার্মেসি চালু করা হবে৷ এখন পর্যন্ত দেশে মোট ৩৪টি হাসপাতালে অমৃত ফার্মেসি খোলা হয়েছে৷ উত্তরপূর্বাঞ্চলে গুয়াহাটির পর দ্বিতীয় রাজ্য হিসেবে ত্রিপুরায় অমৃত ফার্মেসি চালু হল৷ আগরতলা রিজিওনাল ক্যান্সার সেন্টারে অমৃত ফার্মেসির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী৷ এদিন তিনি জানান, রাজ্য সরকারের সাথে এইচএলএল লাইফকেয়ার লিমিটেডের পাঁচবছরের জন্য চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছে৷ আগামীদিনে সমস্ত ওষুধ অমৃত ফার্মেসি সরবরাহ করবে৷ এবছর স্বাস্থ্য দপ্তরের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যে সমস্ত কোম্পানী এবং ঔষুধ নির্ধারিত হয়ে গেছে সেগুলির যোগান এবছর বহাল থাকবে৷ তবে যে সমস্ত ঔষুধের বরাত কেউ পায়নি সেগুলি অমৃত ফার্মেসিকে দেওয়ার প্রচেষ্টা নেওয়া হবে৷ নতুন অর্থবছর থেকে আর কোন সংস্থাকেই সরকারী হাসপাতালে ওষুধ সরবরাহে বরাত দেওয়া হবে না৷
এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা রাজ্য ক্যান্সার জোন হিসেবে চিহ্ণিত৷ প্রতিবছর ২৫০০’র অধিক রোগী ক্যান্সারে আক্রান্ত বলে চিহ্ণিত হচ্ছেন৷ সবচেয়ে চিন্তার কারণ হল, ক্যান্সার একটি মারণব্যাধির পাশাপাশি ভীষণ ব্যয়বহুল৷ বহু পরিবার ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন৷ অমৃত ফার্মেসি রাজ্যে চালু হওয়ায় এখন থেকে ক্যান্সার চিকিৎসায় ওষুধপত্র সুলভ মূল্যে পাওয়া যাবে৷ বিপিএল পরিবারদের জন্য এটি খুবই খুশির খবর৷ কারণ, আগে যেখানে বিপিএল রোগীরা ক্যান্সার রোগের চিকিৎসায় বাজার থেকে ওষুধ কিনে বিল জমা দিতেন এবং এর বিনিময়ে কিছুদিন পর তাদেরকে সেই অর্থ প্রদান করা হত৷ তাতে, অনেক সময় বিপিএল রোগীরা ওষুধ কেনার খরচ বহন করতে গিয়ে নানান সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন৷ এখন আর তাদের নিজেদের পকেট থেকে কোন টাকা খরচ করতে হবে না৷ এবছর থেকে প্রতিটি বিপিএল রোগী ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য ২ লক্ষ টাকার মূল্যের নগদহীন সাহায্য পাবেন৷ এপিএল রোগীরাও অমৃত ফার্মেসি থেকে সুলভ মূল্যে ওষুধ কিনতে পারবেন৷ দেশের বড় বড় হাসপাতালগুলিতে যে সমস্ত ওষুধ ডিভাইস ব্যবহৃত হয় সেগুলি বাজার মূল্যের ২০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশ কম দামে এই ফার্মেসি থেকে এপিএল রোগীরা কিনতে পারবেন৷ এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকারের সংস্থা এইচএলএল লাইফ কেয়ার লিমিটেডের তত্ত্বাবধানে এই ফার্মেসি পরিচালিত হবে৷ এর জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন৷
এদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এধরনের ফার্মেসি খোলা যায় কিনা সে বিষয়টি ভেবে দেখার জন্য সংস্থার কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে৷ তাতে, রাজ্যের সকল মানুষ সহজে উপকৃত হবেন৷ এদিন তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য ক্যান্সার জোন হিসেবে চিহ্ণিত তাই এবিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে একটি ক্যান্সার রিসার্স সেন্টার খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ ইতিমধ্যে এর প্রজেক্ট তৈরি করে কেন্দ্রের দৃষ্টিতে নেওয়া হয়েছে৷ এছাড়াও তিনি জানান, ক্যান্সার হাসপাতালের সাততলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ কাজ শেষের পথে৷ ঐ হাসপাতালে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ ক্যান্সার রোগ নির্ণয়ে এবং চিকিৎসায় অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতিগুলির রাজ্যবাসীর কাজে আসবে৷
এদিকে, অমৃত ফার্মেসি থেকে রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্য বীমা যোজনায় ক্যান্সার রোগীরাও সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন৷ পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বিনামূল্যে রোগ নির্ণয় স্কিমের মাধ্যমে অমৃত ফার্মেসি আগামীদিনে প্যাথোলজি এবং রেডিওলজি বিভাগে রোগ নির্ণয়ে দেশের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালগুলির পরামর্শ গ্রহণের দ্বারা আগরতলা রিজিওনাল ক্যান্সার সেন্টারকে সহযোগিতায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছে৷ ক্যান্সার রোগীদের জন্য বিভিন্ন পুষ্টিকর খাদ্যদ্রব্য, পানীয় এবং পাউডার এই ফার্মেসিতে পাওয়া যাবে৷ এছাড়াও হাসপাতালের ওয়ার্ডে নিত্য ব্যবহার্য্য পণ্যসামগ্রী এবং ল্যাবরেটরির বিভিন্ন টেস্ট কিটগুলি এই ফার্মেসিতে পাওয়া যাবে বলে জানা গেছে৷ ইর্মাজেন্সি কোন ওষুধ যদি রাজ্যের কোথাও পাওয়া না যায় চুক্তি অনুসারে এই ফার্মেসি ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তার যোগান দেবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *