বিজিতা সুর চড়ালেন ক্ষমতায়ণ নিয়ে, নারীরাই সুস্থ সংসার ও সমাজের মূলে, জানালেন ভানুলাল

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ জানুয়ারি৷৷ পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার কারণেই দেশে নারীরা অবহেলিত৷ তাই এই সমাজ

মঙ্গলবার আগরতলায় কিশোরী উৎকর্ষ মঞ্চ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বিজিতা নাথ৷ ছবি নিজস্ব৷
মঙ্গলবার আগরতলায় কিশোরী উৎকর্ষ মঞ্চ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বিজিতা নাথ৷ ছবি নিজস্ব৷

ব্যবস্থা নিয়ে সরাসারি তেমন কোন আপত্তি না করলেও নারীদের সমান অধিকার সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন দাবি করে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থার প্রতি নিন্দায় সুরচড়ালেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বিজিতা নাথ৷ কিশোরী উৎকর্ষ মঞ্চের অনুষ্ঠানে তাঁর দাবি, পুরুষতান্ত্রিক নির্ভর সমাজ ব্যবস্থায় নারীদের মূল্যায়ণ অনেক দেরিতে শুরু হয়েছে৷ সেক্ষেত্রে কিশোরীদের উৎকর্ষ বৃদ্ধি করতে গেলে তার সাথে অন্যদেরও রাখতে হবে৷ তাঁর মতে, নারীদের ছাড়া জগৎ অসম্পূর্ণ, সেক্ষেত্রে পুরুষদের সবসময় প্রাধান্য দিলে চলবে না৷ তাই তিনি মনে করেন, কেবল কিশোরীদের উৎকর্ষ করলেই যথেষ্ট নয়, সমস্ত ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধির বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়৷ সেই একই মঞ্চে তথ্য ও সংসৃকতি মন্ত্রী ভানুলাল সাহার বক্তব্য, নারীরা সুস্থ হলে তবেই সংসার ও সমাজ সুস্থ হবে৷ তাতে বর্তমান সময়ে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারীদেরও নিজেদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার প্রয়োজনীয়তাকে খাঁটো করে দেখার সুযোগ নেই, তথ্য ও সংসৃকতি মন্ত্রীর বক্তব্যে এমনটাই মনে হয়েছে৷ ফলে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় নারী ক্ষমতায়নের প্রশ্ণে রাজ্য মন্ত্রিসভার দুই সদস্যের বক্তব্যে রীতিমতো বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে৷
মঙ্গলবার আগরতলা টাউন হলে দুদিনব্যাপী কিশোরী উৎকর্ষ মঞ্চের রাজ্যব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে বক্তব্যের শুরুতেই সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষামন্ত্রী স্বাধীনতার দীর্ঘবছর শেষে কিশোরীদের উৎকর্ষ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে সে উদ্যোগে প্রশংসার ছলে কটাক্ষ করেন৷ এদিন তিনি বলেন, এতদিন কেন্দ্রীয় সরকার কিশোরীদের বিষয়ে তেমন কোন চিন্তাভাবনা করেনি৷ তবে, এখন স্বাধীনতার এত বছর কিশোরীদের উৎকর্ষ করে তুলতে হবে৷ সে উদ্যোগ নিয়েছে৷ মূলত, দেশের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থাকে এদিন তিনি আগাগোড়া তির্যক ভাষায় সমালোচনা করেছেন৷ কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, নারীদের অর্ধেক আকাশ সকলেই মনে করেন, কিন্তু আক্ষেপের বিষয় হল অর্ধেক আকাশের অধিকার কেউই দিতে চাননা৷ তাঁর দাবি, সেই অর্ধেক আকাশ চোখ বন্ধ করলে গোটা দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যাবে৷ এদিন তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, নারীদের প্রতি ক্ষেত্রেই অবহেলা করা হয়৷ অনেকেই মহিলাদের অবহেলার চোখে দেখতে পছন্দ করেন৷ নারীরা আক্রান্ত হলে এর পেছনে কারা দায়ী সে বিষয়ে বিশেষ কোন আলোচনা হয় না৷ তবে, পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা নিয়ে তাঁর তেমন কোন আপত্তি নেই সেকথাও এদিন তিনি উল্লেখ করেছেন৷ তিনি বলেন, আমাদের দেশে শুরু থেকেই পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা চলে আসছে৷ প্রতিটি ক্ষেত্রেই ছেলেদের প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে৷ তাঁর মতে, ছেলেদের প্রাধান্য দিতে কোন আপত্তি নেই, কিন্তু এর পাশে মেয়েদেরও সমান চোখে দেখতে হবে৷ এক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও ছেলেমেয়েদের মধ্যে সমতা রাখার জন্য বলেন তিনি৷ তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি মায়ের কাছেই ছেলে কিংবা মেয়ে উভয়ই সন্তান৷ কোন ছেলেকে জন্ম দিতে মায়ের কম কষ্ট হয়েছে এবং মেয়েকে জন্ম দিতে বেশি কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে এমনটা ভাবার সুযোগ নেই৷ ছেলে কিংবা মেয়ে উভয়কেই জন্ম দিতে মায়েদের সমান কষ্ট ও জীবনের ঝঁুকি নিতে হয়৷ তাই উভয়কেই সমান চোখেই দেখতে হবে৷ তিনি দাবি করে বলেন, মায়েরা শিক্ষিত হোক কিংবা অশিক্ষিত সন্তানেরা প্রথম শিক্ষা মায়ের কাছ থেকেই পেয়ে থাকেন৷ আজ যারা সমাজে প্রতিষ্ঠিত প্রত্যেকেই কোন না কোন মায়ের সন্তান৷ তাই তিনি মনে করেন, নারীদের বাদ দিয়ে এই জগৎকে চালানো সম্ভব নয়৷
এদিন তিনি বলেন, কিশোরী উৎকর্ষ মঞ্চ এবং এর পাশাপাশি নানাভাবে এখন ধর্মীয় অনুশাসন থেকে নারীদের বের করে আনতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে৷ তাঁর দাবি, পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনায় মেয়েদের প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে রাজ্যে প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকে৷ তাই তিনি চাইছেন, নারীদের সমস্ত ক্ষেত্রে আরো দক্ষতা বৃদ্ধি করা হোক৷ যাতে বর্তমান সমাজব্যবস্থায় নারীরা সকলের সাথে পাল্লা দিয়ে লড়াই করতে পারে৷
এদিন এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তথ্য ও সংসৃকতি মন্ত্রী ভানুলাল সাহা বলেন, একটি সুস্থ নারী, একটি সুস্থ সংসার ও সমাজ গড়তে পারে৷ তাতে ধারণা করা হচ্ছে, নারীদেরও বর্তমান সময়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, সেটাই তিনি বুঝাতে চেয়েছেন৷ কারণ তিনি মনে করেন, সুস্থ নারীদের যোগ্য সম্মান দিতে পারলে, সমাজও এগিয়ে যাবে৷ কিশোরীদের উৎকর্ষ ঘাটতি পূরণে এই জাতীয় অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি মনে করেন৷ কারণ, এখন সময় এসেছে নারীদের প্রকৃত মূল্যায়নের৷ এদিকে, রাজ্যের সোনার মেয়ে দীপা কর্মকার অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল কিশোরীদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *