সাব্রুম রেল স্টেশন সহ বিভিন্ন কাজকর্ম খতিয়ে দেখে মুখ্যমন্ত্রীর পর্যালোচনা সভা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জানুয়ারি৷৷ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার দু দিনের সফরে সাব্রুমে অবস্থান করছেন৷ সফরের

শুক্রবার সাব্রুম রেল স্টেশনের নির্মাণ কাজ খতিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ ছবি তথ্য দপ্তর৷
শুক্রবার সাব্রুম রেল স্টেশনের নির্মাণ কাজ খতিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ ছবি তথ্য দপ্তর৷

প্রথম দিন তিনি সাব্রুম রেল স্টেশনটি পরিদর্শন করেছেন৷ নির্মীয়মাণ রেল স্টেশনের কাজকর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ খবর নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ তিনি কাজকর্মের অগ্রগতি খতিয়ে দেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা শেষ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ঠিকেদারী সংস্থার কাছে আহ্বান জানিয়েছে৷ এদিকে ফেনী নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতুর স্থানটিও পরিদর্শন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ আগামীকালও তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ঘুরে দেখবেন বলে জানা গেছে৷ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের সাব্রুম সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে৷
দূরবর্তী এলাকাগুলির সার্বিক উন্নয়নে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা রূপায়ণে গুরুত্ব দিতে হবে৷ আজ সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত সাব্রুম মহকুমা ভিত্তিক পর্যালোচনা সভায় এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার আশু উন্নয়নের ফলে অদূর ভবিষ্যতে সাব্রুম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে৷
সাব্রুম মহকুমা ভিত্তিক এই পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী সড়ক যোগাযোগ, বৈদ্যুতিকরণ, জলসেচ, পানীয় জল সরবরাহ, শৌচালয় নির্মাণ, বাসগৃহ নির্মাণ, সামাজিক ভাতা প্রদান, বিভিন্ন পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রভৃতি বিষয়ের অগ্রগতি নিয়ে পর্যালোচনা করেন৷ উল্লেখ্য, সাব্রুম মহকুমায় তিনটি ব্লক৷ সাতচান্দ, রূপাইছড়ি ও পোয়াংবাড়ি ব্লক, নগর পঞ্চায়েত টি, মহকুমায় গ্রাম পঞ্চায়েত আছে ৩১টি৷ এডিসি ভিলেজে আছে ৩৬টি৷ নিম্নবুনিয়াদি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত সুকল রয়েছে ২২৩টি৷ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে ৪৪০টি৷ মহকুমায় সাক্ষরতার হার ৯৫ শতাংশ৷
পর্যালোচনা সভায় পূর্ত দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মহকুমায় মোট ৫৩৮ টি জনবসতির মধ্যে ৫০২টি জনবসতিকে ইতিমধ্যেই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্ত করা সম্ভব হয়েছে৷ বাকি আছে ৩৬টি জনবসতি, যেগুলিকে সড়কের সঙ্গে যুক্ত করতে ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ সড়ক যোগাযোগের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দপ্তরের পক্ষ থেকে যে পরিকল্পনা রয়েছে তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণমান বজায় রেখে সম্পন্ন করতে হবে৷ রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে এন বি সি কেও কাজের গুণমান বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে সভায় জানানো হ য়, এই মহকুমায় ৩১,৯৭৬টি পরিবারের মধ্যে ২১,০৬৫ টি পরিবারকে এখন পর্যন্ত বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে৷ নিয়মিতভাবে হুক লাইনের বিরুদ্ধে অভিযান, প্যানাল্টি আদায় এবং গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেবার বিষয়ে দপ্তরকে সক্রিয় উদ্যোগ গত্মরহণ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷ পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের সংশ্লিষ্ট এলাকায় যথাযথ তদারকি করার জন্য তিনি পরামর্শ দেন৷ সভায় জল সম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই মহকুমায় মোট কৃষি জমির পরিমাণ ১১,৪১১ হেক্টর৷ এর মধ্যে সেচযোগ্য জমি ৫,৯৭৭ হেক্টর৷ এখন পর্যন্ত সেচের আওতায় এসেছে ৫,৪২৭ হেক্টর৷ ২০১৬-১৭ সালে ৫০ হেক্টর জমিকে সেচের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷
পানীয় জল ও স্বাস্থ্যবিধি দপ্তরের পক্ষ থেকে মহকুমায় ৪৭৭টি জনবসতির মদ্যে পুরোপুরিভাবে পানয়ী জলের ব্যবস্তা করা হয়েছে ৩৭৬টিতে৷ বাকি ১০১ টিতে আংশিক ব্যবস্থা রয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের আধিকারিকদের হাসপাতাল, বাজার, খোলামাঠ ইত্যাদির কাছাকাছি স্থানে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নিতে পরামর্শ দেন৷ এছাড়া সমস্ত শৌচাল নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে তিনি জেলাশাসককে নির্দেশ দেন৷ নগর এলাকাগুলিতে জনবহুলস্থানে সুলভ শৌচালয় নির্মাণ করার জন্য তিনি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে বলেছেন৷ প্রতিটি সুকল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে শৌচালয় ও পানীয় জল সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷
নর্মাল আই এ ওয়াই এর মাধ্যমে যেসব গৃহ নির্মাণ এখনো বাকি রয়েছে সেগুলো আগামী মার্চের মধ্যে সম্পন্ন করতে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন৷ সভায়সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয় এই মহকুমায় মোট ১২,১৫২ জন সামাজিক ভাতা পাচ্ছেন৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, র াজ্যের দরিদ্র মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক ভাতা প্রদান করছে সরকার৷ এই স ামাজিক ভাতার বিষয়ে জনগণের মধ্যে প্রচারের যথেষ্ট অভাব রয়েচে৷ সেজন্য সর্বস্তরের জনগণের কাছে এ বিষয়ে প্রচার কর্মসূচী নিয়ে যেতে মুখ্যমন্ত্রী জনপ্রতিনিধিদের পরামর্শ দিয়েছেন৷ পর্যালোচনা সভায় মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও কারামন্ত্রী মণীন্দ্র রিয়াং, বিধায়ক রীতা কর মজুমদার ও বিধায়ক প্রভাত চৌধুরী, এম ডি সি অরুণ ত্রিপুরা, এম ডি সি সাথই মগ, মুখ্যসচিব যশপাল সিং, প্রধান সচিব ডা রাকেশ সারোয়াল, দক্ষিণ জেলার জেলাশাসক, মহকুমা শাসক ও অন্যান্য জনপ্রতিনিধি সহ বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চ পদস্থ আধিকারিকগণ উপস্থিত ছিলেন৷ এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মহকুমার আইন শৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ে এক পর্যালোচনা সভা করেন৷
এদিকে, আজ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার নির্মীয়মাণ সাব্রুম রেলস্টেশনের কাজ ও প্রস্তাবিত ফেণী সেতুর স্থান পরিদর্শন করেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *