নিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ১৭ ফেব্রুয়ারি৷৷ ইদানিংকালে খোয়াই শহর ও শহরতলী ভবঘুরেদের আখড়ায় পরিনত হয়ে পড়েছে৷ শহরের উপকন্ঠে ভঘুরেদের সংখ্যা কেবলই বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ তবে ভবঘুরেদের পূণবার্সন কিংবা তাদের জন্য কিছু করার একটা মানসিকতার অভাব সর্বত্রই রয়েছে৷ সভ্য সমাজের বাইরে তাদের অন্য একটা অন্ধকার জগতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে৷ আইনও তাদের পক্ষে কথা বলছে না৷ যে কারনে পুলিশ বা প্রশাসন হাত গুটিয়ে বসে থাকে৷ তবে আইনের ফাঁকে কেউ নাক গলাতে রাজী নন৷ যে কোন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সামাজিক সংস্থা চাইলেই ভবঘুরেদের জন্য কিছু করা সম্ভব৷ কিন্তু আধুূনিক সভ্য সমাজে এদের জন্য ভাববার সময় কোথায়?
[vsw id=”SwFwu8PJMMA” source=”youtube” width=”425″ height=”344″ autoplay=”yes”]এমনই যখন পরিস্থিতি৷ খোয়াই শহরে আবির্ভাব ঘটে এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার৷ খুব বেশী বয়স্ক বলে মনে হচ্ছিল না৷ কোলে ছোট্ট অবোঝ শিশু৷ মহিলার বেশভূষা খুব বেশী বেমানান বা দৃষ্টিকটু নয়৷ কিন্তু বেশ কিছু দিন যাবত মহিলা ওশিশু খোয়াইতে রয়েছেন তা হলফ করে বলা না গেলেও, এতটুকু মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা ও তার কোলের শিশুটি কি তবে ভূকা পেটে দিন গুজারা করছিল?
এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় এক-দুজন মিডিয়া কর্মী কোটা বিষয়টি খোয়াই মহকুমা শাসকের গোচরে আনেন৷ মিডিয়া কর্মীরা ত্রিপুরা জার্ণালিষ্ট এসোসিয়েশন, খোয়াই জেলা কমিটির সদস্য৷ তাদের এই উদ্যোগ কতটা ফলপ্রসূ হল তা খোয়াই শহরের ব্যস্ত মানুষ স্বচক্ষেই দেখলেন৷ একটি মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা যখন কোলের শিশুকে নিয়ে খোয়াই শহ চষে বেড়াছিল, সবাই কেবল তামাশা দেখলেন৷ সেই মহিলা বা তার শিশুর পেটে দুমোঠো খাবার জুটল কিনা তার খোঁজ কেউই নিলেন না৷
যে যাইহোক, বুধবার সকালে খোয়াই সুভাষপার্কেই স্থানীয় মহিলা পুলিশের একপ্রস্থ দৌড়ঝাঁপ ছিল কেবল মাত্র এক মহিলা ও তার শিশুকে নিয়ে৷ মহিলা পুলিশ নাজেহাল হয়ে পড়লেন এই দুজনকে পুলিশের ভ্যানে তুলতে গিয়েই৷ একজন মানসিক ভারসাম্যহীন৷ আরেকজন সেই মায়ের অবোঝ সন্তান৷ শিশুকে কোলে নিয়ে মহিলা পুলিশ বসে রইলেন পুলিশী ভ্যানে, কিন্তু শিশুর মাকে সেই ভ্যানে তুলতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হল মহিলা পুলিশকে৷ বিষয়টি অনেকটা হাস্যকর হলেও ঘটনা সত্যি৷ দীর্ঘ সময় টানাপোরেনের পর অবশেষে মহিলাকে পুলিশের ভ্যানে তোলতে সক্ষম হয় পুলিশ৷ কিন্তু সব কিছুর মধ্যে আশ্চর্জনকভাবে ঘটনার সময় উপস্থিত জনসাধারনের অসহযোগিতার একটা নগ্ণ চেহারা কেমন যেন প্রকট হয়ে পড়ল এদিন৷ মহিলা পুলিশ যখন হ্যাস্ত-ন্যাস্ত হচ্ছিলেন, তখন সাধারন মানুষ তামাশা দেখতেই ব্যস্ত৷ কেউই এগিয়ে এসে সাহায্য করলেন না৷ সাহায্য করলেন না এতদিন রাস্তায় রাস্তায় একটি অবোঝ শিশুকে নিয়ে ঘুরাঘুরি করা সেই মাকে৷ অবোঝ শিশুটির পেটে এতদিন ঠিকমতো যে খাবার পড়েনি তাতে কোন সন্দেন নেই৷ শিশুটির মুখের দিকে তাকিয়ে কেউই কিন্তু এগিয়ে আসেননি৷ তবে বুধবার মিডিয়া কর্মীদের দৌলতে মা ও শিশুর ভাগ্য এবার যে বদলাতে যাচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই৷ তাদের দুজনকেই হোমে পাঠানো হয়েছে৷ মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলার মানসিক চিকিৎসা নিশ্চই হবে৷ মনে করা হচ্ছে সামান্য চিকিৎসায় তিনি সেরে উঠতে পারেন৷ আর তাই শিশুটির জন্য সুখকর হবে৷ সে ফিরে পাবে সুস্থ্য মায়ের কোল, মায়ের পরশ, ভালবাসা৷ তবে একটা কথা নিশ্চিত যে যখন আর অবোঝ শিশুটিকে ক্ষুধার যন্ত্রনায় কষ্ট করতে হবে না৷
তবে কিছুদিন পূর্বেই খোয়াই শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে এক ভবঘুরে যুবক ৯ বছর বাদে তার বাড়ী ফিরেছিল৷ ফিরে পেয়েছিল তার আপনজনকে৷ তাই আশায় পারদ কিন্তু এবার চড়ছে৷ সবারই প্রত্যাশা, মহিলা সুস্থ্য হয়ে উঠুক৷ অবোঝ শিশু তার মায়ের কোলে ফিরে পেলে আরও একটা ঘটনা ছাপার অক্ষরে লেখা থাকবে৷ আগামী দিনে ভবঘুরেদের জন্য এগিয়ে আসার ক্ষেত্রে সবাইকে ইন্ধন যুগাবে৷
2016-02-18