কি কারণে সংকট তীব্রতর হইতেছে এবং এক্ষেত্রে রাজ্য সরকার কি ভূমিকা নিয়াছে তাহা অন্তত জানিবার অধিকার আছে নাগরিকদের৷ উত্তর পূর্বাঞ্চলের প্রত্যন্ত রাজ্য ত্রিপুরায় তো একের পর এক সংকট লাগিয়াই আছে৷ অথচ এই বামফ্রন্ট সরকার নির্বিকার৷ যে সরকার দাবি করে রাজ্যে স্বর্ণযুগ চলিতেছে৷ বহিরার্জ্যের অতিথিরা রাজ্যে পা রাখিরাই বলিয়া দিতে পারেন ইহা সোনার রাজ্য৷ এই যখন অবস্থা তখন নাগরিকদের দুঃখ দুর্দশার ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা থাকে কি করিয়া সোনার মুকুট পরা সরকার৷ মানুষের প্রতিদিনেরসবচাইত জরুরী হইল রান্নার জ্বালানী গ্যাস৷ গত প্রায় দুই তিন বৎসর যাবৎ এই রান্নার গ্যাসের সংকট লাগিয়াই আছে৷ চড়া দামে বাজার হইতে ভোক্তারা কিনিয়া নিতেছেন৷ রাজ্য সরকারের সামান্য বিবৃতি নাই৷ এই সংকট নিরসনে সরকার কী পদক্ষেপ নিয়াছেন তাহাও রাজ্যবাসী জানেন না৷ রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলির মধ্যে খাদ্য দফতর একটি৷ কিন্তু এই দফতরের কাজকর্মে রাজ্যবাসী মারাত্মক ভাবে হতাশ৷ রাজ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ এলপিজি সংকট চলিতে থাকিলেও সরকারের কোনও প্রতিক্রিয়া নাই৷ সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ আছে এমনও বলা যায় না৷ রাজ্যে দুটি বটলিং প্ল্যান্ট কার্যত বন্ধ হইয়া আছে৷ এইসব প্ল্যান্টগুলিতে কর্মীসন্তোষ লাগিয়াই আছে৷ তাহারা নাকি সিপিএমের শ্রমিক সংগঠন সিট্যু ভুক্ত৷ সিট্যু হইলে শ্রমিকদের দাপটই তো আলাদা৷ শ্রমিক অসন্তোষে এই প্ল্যান্ট গুলিতে নিয়মিত উৎপাদন হয় না৷
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনও বিভিন্ন সময়ে দায়িত্বহীন কাজকর্ম করিতেছে৷ গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহে ঢিলেমি ইত্যাদির অভিযোগ তো আছেই৷ রাজ্যে এই মুহূর্তে রান্নার গ্যাসের সংকট তীব্রতর হইয়াছে৷ রান্নার গ্যাসের এমন হাহাকার ইতিপূর্বে দেখা গিয়াছে এমন বলা যাইবে না৷ তীব্র সংকট দেখা দিলে রাজ্য সরকারকে তো আগে গলা ফাটাইতে দেখা যাইত৷ ইন্ডিয়ান অয়েল বা কেন্দ্রের মুন্ডুপাত করা হইত৷ এখন তো তাহা, রাজ্যবাসী গুলিতে পরিতেছেন না৷ খাদ্য দফতর কার্যত মুখে কুলুপ আঁটিয়া আছে৷ রান্নার গ্যাসের এই সংকটের কারণে এখন ঘরে ঘরে অনাহার অর্ধাহার চলিবার মতো অবস্থা৷ বিকল্প কেরোসিন৷ কেরোসিন তো এখন দুর্মূল্য৷ কালোবাজারে চড়া দামে কিনিতে হয়৷ নিরূপায় মানুষ সোনার রাজ্যে এই দুঃসহ যন্ত্রণাতেই আছেন৷ তর্কের খাতিরে ধরিয়াই নেওয়া গেল ইন্ডিয়ান অয়েল সঠিক ভাবে সরবরাহ করিতেছে না, রাজ্যে উৎপাদন বন্ধ, বুলেট আসিতেছে না৷ সবই কেন্দ্রের দোষ৷ তাই বলিয়া রাজ্যে সরকার হাত পা গুটাইয়া, মুখে কুলুপ আঁটিয়া বসিয়া থাকিবেন? রাজ্যের মানুষ যখন গ্যাসের সংকটে রীতিমতো দিশেহারা তখন রাজ্য সরকার দায় এড়াইয়া চলিতে পারে? রাজ্যের দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলগুলির ভূমিকাও চরম হতাশার৷ ক্ষমতাসীন দল সিপিএমের রান্নার গ্যাসের এই রকম সংকট সম্পর্কে কোনও বক্তব্য নাই কেন? কেন সংকট নিরসনে আন্দোলনমুখী হইবারও তাগিদ অনুভব করিতেছেন না৷ যদি কেন্দ্রের কারণে রাজ্যে এমন দুর্ভোগ দেখা দেয়, সেখানে সিপিএম নীরব কেন?
2016-02-18