সর্বনাশা খেলায় বিভিন্ন দল

CONG BJP TRINAMUL AAPসব দলই এক পথে হাটেন৷ এক্ষেত্রে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ব্যতিক্রমী ভূমিকা নিবে আশা করা গেলেও কার্য্যত সব দলের এক রা৷ ভারত জয়ের স্বপ্ণ সফল হইবার পর রাজ্যে রাজ্যে গেরুয়া শিবিরের জয়যাত্রার সফল অভিযানের প্রয়াস শুরু হয়৷ কিন্তু সেই চাপাইয়া দেওয়া নেতৃত্বের কারণে রাজ্যে রাজ্যে দল যে পিছাইয়া পড়িতেছে তাহা শীর্ষ নেতৃত্ব বুঝিতে চাহিতেছেন না৷ ফলে, তলে তলে জনমনে দল সম্পর্কে যে সমর্থন দিনে দিনে সঞ্চারিত হইতেছিল, তাহাই যেন বাধাপ্রাপ্ত হইতেছে৷ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম নীতি মানিতে গিয়ে প্রত্যেক দলকেই সাংগঠনিক নির্বাচনে যাইতে হয়৷ সদস্য সংগ্রহ অভিযান, জেলা, মহকুমা ইত্যাদি স্তরে নির্বাচন সাঙ্গ করিয়া প্রদেশ সভাপতি নির্বাচন করা হয়৷ একই ভাবে কেন্দ্রীয় বা সর্বভারতীয় কমিটিও এইভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে সম্পন্ন করানো হয়৷ কিন্তু অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়াছে, এইসব সাংগঠনিক নির্বাচন হয় নিয়ম রক্ষার৷ আসলে, হাইকমান্ডের নির্দেশই শেষ কথা৷ নির্বাচনের মুখোশ পরাইয়া হাইকমান্ডের মনোনয়নই নির্বাচন বলিয়া ঘোষণা দেওয়া হয়৷ কিন্তু লক্ষ্য করিবার বিষয় নির্বাচনের ধারে কাছে না গিয়াও দলের নতুন সভাপতি নিয়োগ করা হয়৷ বেশীরভাগ দলই সভাপতি নির্বাচিত করেন না করেন নিযুক্ত৷ এইভাবে আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে৷ গণতন্ত্রের প্রতি এই দলগুলির নেতাদের বক্তব্যে কতনা দরদ উছলাইয়া পড়ে৷ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য কী না আকুতি৷ কিন্তু, এইসব রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে গণতন্ত্রের কতখানি সুযোগ আছে, এই প্রশ্ণ উঠিয়াছে৷ কথায় আছে, আপনি আচরি ধর্ম পরেরে শেখায়৷ রাজনৈতিক দলগুলি যদি নিজেরা মুখে গণতান্ত্রিক বলিয়া দাবী করে সেখানে দলে গণতন্ত্রের সামান্য আঁচও না থাকে তাহলে দ্বিচারিতা ছাড়া কি ইহাকে বলা যাইবে?
বুধবার ভারতীয় জনতা পার্টির ত্রিপুরা প্রদেশের নতুন সভাপতি পদে যিনি বহাল হইয়াছেন তিনি নির্বাচিত হন নাই৷ ভোটাভুটির কোনও প্রক্রিয়াই হয় নাই৷ হাইকমান্ডের পছন্দ বলিয়া তিনি ‘নির্বাচিত’ বলিয়া ঘোষণা করা হইয়াছে৷ অথচ গত কিছুদিন যাবৎ সাংগঠনিক নির্বাচন নিয়া কি গলদগর্ম অবস্থা গিয়াছে নেতা কর্মীদের মধ্যে৷ কিন্তু বুধবার কাউন্সিল সদস্যদের সভায় নতুন সভাপতি ‘নির্বাচন’ হইয়া গেল৷ রাজ্যে জনমনে তাহার প্রভাব, দলীয় কর্মীদের নেতাদের কাছে কতখানি গ্রহণযোগ্য তাহা যাচাই না করিয়া দিল্লীর এই চাপাইয়া দেওয়ার ঘটনা কার্য্যত দলকে দূর্বলই করিতেছে৷ পশ্চিমবঙ্গে, আসামে ও অন্যান্য রাজ্যে সেই একই পথে হাটিয়াছে বিজেপি৷ সাংগঠনিক নির্বাচন চালু থাকিলে তাহাকে মর্যাদা দিলে দলের সংগঠনে যে প্রাণের ছোঁয়া, একটা সচল অবস্থা দেখা যায়৷ হাইকমান্ড যদি চাপাইয়া দেয় তাহা হইলে সংগঠনের জন্য লড়াই ইত্যাদির তাগিদ তেমন থাকিবে না৷ এ রাজ্যে বিজেপি ধীরে ধীরে কিছুটা উঠিয়া দাঁড়াইয়াছে৷ কিন্তু, সিপিএমের বিকল্প হইয়া উঠিতে পারে নাই৷ পারিবে এমন আশা এই মুহুর্তে করা মুশকিল৷ বিজেপির নতুন সভাপতি রাজ্যে কতখানি সিপিএম বিরোধী হাওয়া তুলিতে পারিবেন বলা মুশকিল৷ ইহাও বলা মুশকিল যে, দলে নতুন করিয়া সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি হইবে কিনা৷ কংগ্রেসের ভগ্ণ দশার সুযোগই নিতেছে বিজেপি৷ এরাজ্যে কংগ্রেস সহসা ঘুরিয়া দাঁড়াইতে পারিবে মনে হয় না৷ এই দলেও হাইকমান্ডের চাপাইয়া দেওয়ার পদ্ধতি চালু আছে৷ আর এই কারণে দল উঠিয়া দাঁড়াইতে পারিল না৷ বিজেপির জুজু দেখাইয়া সুদীপ বর্মন ও বীরজিৎ সিনহারা হাইকমান্ডকে কাবু করিয়াছেন৷ হাইকমান্ডের পছন্দের না হইলে রাজ্যে দলের সভাপতির বা বিরোধী দলনেতার পদ পাওয়া যাইবে না এই নীতিই চলিয়া আসিতেছে৷ দেশের প্রায় সব দলই হাটিতেছে এক পথে৷ আর এজন্যই গণতন্ত্র এখন কথার কথা হইয়া উঠিতেছে৷ রাজনৈতিক দলগুলিতে গণতন্ত্রের এমন অনাদর ভবিষ্যৎ বিপদকেই আমন্ত্রণ জানাইতেছে৷ এমন এক দিন আসিবে যখন দেখা যাইবে রাজনৈতিক দলগুলিই গভীর অস্তিত্ব বিপন্নের মুখে পড়িয়াছে৷ এই বিড়ম্বনা কিন্তু গণতন্ত্রের সমাধি রচনা করিবে৷ রাজনৈতিক দলগুলি বোধহয় সর্বনাশা এই খেলাতেই মাতিয়াছে৷ সাংগঠনিক নির্বাচনের এই খেলা কতদিন চলিবে কে জানে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *