অসমে আরও দুজনের মৃত্যু, গত ৪৮ ঘণ্টায় নিহত ১০ জন, সংখ্যা বেড়ে ২৪

গুয়াহাটি, ৯ জুলাই (হি.স.) : কোভিড-১৯ সংক্রমিত আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে অসমে। তাঁরা গুয়াহাটির বেলতলা এলাকার বাসিন্দা বছর ৭০-এর প্ৰসন্নকুমার হালৈ এবং কারবি আংলঙের রামসিং হানসে। দুজনকে জটিল অবস্থায় গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিএউতে ভরতি করে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল। টুইট আপডেটে জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্ৰী ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা। তিনি তাঁদের মৃত্যুতে গভীর শোক ব্যক্ত করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।

প্রসঙ্গত গত ৪৮ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত দশজনের মৃত্যু হয়েছে। আজকের দুজনকে নিয়ে রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ২৪।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে উজান অসমের যোরহাট মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের আইসিইউতে করোনায় আক্রান্ত জনৈক মণিকা ভূমিজ (১৯) নামের তরুণীর অকালমৃত্যু হয়েছে। মণিকা অ্যানিমিয়া এবং সেপসিস রোগে ভুগিছিলেন। তাকে শিবসাগর জেলা হাসপাতাল থেকে যোরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল। যোরহাটে নিয়ে আসার পর তার নমুনা পরীক্ষা করে কোভিড-১৯ পজিটিভ ধরা পড়ে। ডাক্তাররা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন তার প্রাণরক্ষা করতে, কিন্তু পারেননি।

এর আগে বুধবার ভোররাত তিন থেকে পাঁচটার মধ্যে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চার কোভিড-১৯ আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে যথাক্ৰমে গুয়াহাটির হেদায়তপুরের সফিকুল রহমান (৬০), বরপেটা জেলার পাটাসারকুচির রুণুমি মজুমদার (৬০), গুয়াহাটির কাহিলিপাড়া এলাকার উৎপল কুমার চলিহা (৭৫) এবং লালগণেশের হরিপ্ৰসাদ মণ্ডল (৬৮)। ওইদিনই তেজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মাজবাটের জিতেন্দ্ৰ প্ৰসাদের মৃত্যুর খবর দিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জিতেন্দ্রপ্রসাদ ছিলেন সেপ্টিসেমিয়ার রোগী।

প্রসঙ্গত গতকাল মঙ্গলবার রাজ্যে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছিল। তাঁদের একজন কলিয়াবরের ধদারাম মুড়া (৪০) এবং অপরজন কামরূপ জেলার দেবী কাকতি। নিউমোনিয়া এবং সেপ্টিকশকে আক্রান্ত ধদারামকে এক জুলাই গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের আইসিইউতে ভরতি করা হয়েছিল। তাঁর সোয়াব টেস্টে কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ে। কিন্তু ডাক্তারদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে এদিন সকাল নয়টার দিকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুড়া।

এদিকে মঙ্গলবার বিকেলের দিকে কামরূপ জেলার দেবী কাকতি নামের এক মহিলার কোভিড-১৯ সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছিল গুয়াহাটির বশিষ্ঠতে অবস্থিত সেনাবাহিনীর ১৫১ বেস হাসপাতালে। গত ২ জুলাই তাঁকে বেস হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল। কোভিড-১৯ পজিটিভের পাশাপাশি টাইপ ২ ডায়াবেটিজ এবং হাইপারটেনশনের রোগী ছিলেন তিনি।

রাজ্যে আজ পর্যন্ত ১৪,০৩২ জন কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। ইতিমধ্যে ৮,৭২৬ জন সুস্থ হলেও গুয়াহাটি সহ বিভিন্ন জেলা ও মডেল হাসপাতালে ৫,২৮১ জন সক্রিয় রোগীর চিকিৎসা চলছে।