নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১০ নভেম্বর৷৷ প্রতিহিংসা পূরণে রাজনৈতিক শত্রুতা এরাজ্যে বিরল ঘটনা৷ আগে কখনো এমনটা চোখে পড়েনি৷
সিপিএম পার্টি অফিস খুলতে না পারার কারণ এইভাবেই ব্যাখ্যা দিলেন বিরোধী উপনেতা বাদল চৌধুরী৷ তাই, পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়েছে সিপিএম৷ শনিবার সরকারী বাসভবনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের সাথে এবিষয়ে আলোচনা করেছেন বিরোধী উপনেতা বাদল চৌধুরী, সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী, বিধায়ক তপন চক্রবর্তী এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মানিক দে৷ তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর হাতে বন্ধ হয়ে থাকা ৯৪টি সিপিএম পার্টি অফিসের তালিকা তুলে দিয়ে সেগুলি খোলার উপযুক্ত ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি বিরোধী বিধায়ক, সাংসদ এবং প্রাক্তন মন্ত্রিদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করারও আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা৷
এবিষয়ে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী উপনেতা বলেন, জোত জমিতে যে সমস্ত সিপিএম পার্টি অফিস রয়েছে সেগুলি হুমকির মুখে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে বন্ধ হয়ে রয়েছে৷ তাঁর বক্তব্য, এমনও পার্টি রয়েছে, যা জোত এবং সামান্য অংশ খাস জমিতে গড়ে উঠেছে৷ ওই পার্টি অফিসগুলি ভাঙার জন্য প্রশাসনকে প্রভাবিত করছেন শাসক বিজেপি দলের একাংশ নেতাকর্মী৷ তাছাড়া বহু অফিস বিজেপি আশ্রিত দুসৃকতিদের হুমকির কারণে বন্ধ হয়ে রয়েছে৷ তাঁর অভিযোগ, সিপিএম কর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে আগুন লাগানো, লুটপাট এবং বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে৷ তাই, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে প্রায় ৭০০০ দলীয় কর্মী সমর্থক তাঁদের বাড়ি থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন৷
বিরোধী উপনেতা জানিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যে সমস্ত সিপিএম পার্টি অফিস বন্ধ রয়েছে সেগুলি খোলার ব্যবস্থা করা, কিছু অফিস নিজস্ব জমির পাশাপাশি কিছু অংশ খাস জমিতে রয়েছে, সেগুলি রক্ষা করা এবং বিরোধী দল বিশেষ করে সিপিএম যাতে তাদের রাজনৈতিক কাজকর্ম চালিয়ে যেতে পারে তা সুনিশ্চিত করার দাবিতে এদিন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি প্রদেশ সভাপতির বিপ্লব কুমার দেবের হাতে দাবি সনদ তুলে দেওয়া হয়েছে৷
সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরীর কথায়, রাজ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকলে এই দাবি উঠত না৷ তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনের পর বাদলবাবু তাঁর নির্বাচনী ক্ষেত্র ঋষ্যমুখ যেতে পারেননি৷ কেরালার জন্য ত্রাণ তহবিল সংগ্রহে গিয়ে তিনি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন৷ সম্প্রতি আমবাসায় পার্টি অফিসে বৈঠক চলাকালীন আচমকা তাঁদের বৈঠক করতে বাধা দেওয়া হয়েছিল৷ পরে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে৷ এই দাবি নিয়ে বিরোধী উপনেতার বক্তব্য, প্রতিহিংসা পূরণে রাজনৈতিক শত্রুতা এরাজ্যে বিরল ঘটনা৷ এমনটা আগে কখনো চোখে পড়েনি৷ এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন৷
বাদলবাবু জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের দাবির প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন এবং সমস্যা সমাধানে প্রশাসনের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন৷ তবে, মুখ্যমন্ত্রী যদি এই সমস্যাগুলি সমাধানে কোন পদক্ষেপ না নেন, তাহলে মনে করা হবে সেটা তাঁদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, বলেন বিরোধী উপনেতা৷


















