কলকাতা, ১৪ ডিসেম্বর ( হি.স.): এবার সি পি এমের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান গৌতম দেব । শরীরের সঙ্গে
যুদ্ধে আর পেরে উঠছেন না বলে সি পিএমের রাজ্য নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি । উত্তর ২৪ পরগনার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় গৌতমবাবুর উপযুক্ত বিকল্প এখনই খুঁজে পাওয়া যাবে না জেনেও তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে আর জোর খাটাতে চাইছে না আলিমুদ্দিনের মুজ্ফর আহমেদ ভবন ।
জেলা সম্মেলনের আগে হাতে রয়েছে আরও মাস দেড়েক সময় । সেই সময়ের মধ্যে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক হিসেবে বিকল্প মুখ সন্ধানের চেষ্টা গতি পেয়েছে । এখনও পর্যন্ত আলোচনার মধ্যে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা থেকে দলের রাজ্য কমিটির সদস্য তিন নেতার নাম । অবশ্য়,দলের অন্দরে গৌতমবাবুর নিজের পছন্দের পাত্র তরুণ নেতা পলাশ দাস । যদিও জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসাবে বিধাননগর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত । পলাশকে এখনই গোটা জেলার ভার দেওয়া উচিত হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান রাজ্য নেতৃত্ব । ছাত্র রাজনীতিতে নজরকাড়া ইনিংস দিয়ে শুরু করা বর্ষীয়ান নেতা নেপালদেব ভট্টাচার্য অনেক দিন ধরেই জেলা সম্পাদকের দৌড়ে আছেন । তবে তাঁকে নিয়ে আবার জেলা সি পি এমের অন্দরে নানা সমীকরণের লড়াই রয়েছে । এই পরিস্থিতিতে সাম্প্রতিক কালের ঘরোয়া চর্চায় উঠে এসেছে বসিরহাটের নেতা মৃণাল চক্রবর্তীর নাম । পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই নেতাকে নিয়ে জেলার শিবির বিভাজনে বিশেষ সমস্যা নেই। দলের একাংশের আরও যুক্তি, উত্তর ২৪ পরগনার মতো বড় জেলার দায়িত্ব শিল্পাঞ্চলের কোনও নেতাকেই দিতে হবে, এই ছক ভেঙে বেরোনো যাবে মৃণালবাবুকে বেছে নেওয়া হলে ।
সি পি এমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের বক্তব্য, ‘গৌতমদা’র শরীরটা সত্যিই সমস্যার কারণ । সেটা বিবেচনায় রেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যা নেওয়ার, নিতে হবে’। দলের গঠনতন্ত্রের সংস্থান মানলে তিন দফায় জেলা সম্পাদক থাকতে পারেন কেউ । গৌতমবাবুর এখন চলছে দ্বিতীয় দফা । কিন্তু এই শরীরে গোটা জেলায় ছুটে বেড়ানো অসুবিধাজনক হয়ে যাচ্ছে গৌতমবাবুর পক্ষে । সামনে পঞ্চায়েত ও তার পরে লোকসভা ভোট রয়েছে । তাই ভাবতেই হচ্ছে আলিমুদ্দিন স্ট্রেটকে ।
রাজ্যে ক্ষমতা থেকে সি পি এম বিদায় নেওয়ার বছরখানেকের মধ্যেই খানিকটা চমক দিয়ে দলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল গৌতম দেবকে । দমদমের রবীন্দ্র ভবনে ২০১২ সালের জেলা সম্মেলনে গৌতমবাবু জেলা সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পরে পলিটব্যুরো থেকে বিশেষ সম্মতি আদায় করেছিল আলিমুদ্দিন । কারণ, গৌতমবাবু দলের কেন্দ্রীয় কমিটিরও সদস্য । সি পি এমের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, একই সঙ্গে তিনটি স্তরের কমিটির সদস্য থাকা যায় না । সেই বিশেষ ছাড়পত্রই আদায় করা হয়েছিল একমাত্র গৌতম দেবেরই জন্য । এ বার সব ঠিকমতো চললে আগামী ২৮ থেকে ৩১ জানুয়ারি দলের জেলা সম্মেলনে সম্পাদকের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারেন তিনি । এ বারের জেলা সম্মেলন হবে বরানগরের রবীন্দ্র ভবনে ।

জেলা সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান গৌতম দেব
Releated Posts
অসম বিধানসভায় ইউসিসি পাস, ‘প্রত্যেক নাগরিকের জন্য অভিন্ন আইন কার্যকর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’: অমিত শাহ
নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): অসম বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বিল পাস হওয়ায় রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয়…
কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের
কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…
ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…
সুস্থ সমাজ গঠনে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান সুদীপ রায় বর্মনের
আগরতলা, ১৭ মে: দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুস্থ সমাজ ও শক্তিশালী দেশ গঠনে কাজে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন…


















