নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪মার্চ৷৷ পৃথক স্থানে তিন নাবালিকাকে ধর্ষণ এবং দুই ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছে৷ চবিবশ ঘন্টায় রাজ্যের পাঁচটি স্থানে নারী সংক্রান্ত এই অপরাধের ঘটনাগুলি ঘটেছে৷ তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে৷ প্রতিটি ঘটনারই নিকটবর্তী থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে৷ পৃথক স্থানে অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে৷ অপহৃতাদের কোন হদিশ পাওয়া যায়নি খবর লেখা পর্যন্ত৷ পুলিশ তদন্ত করছে অন্যদিকে অপহৃতাদের পরিবারের তরফ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ খবর চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে৷
সংবাদে প্রকাশ, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাণীরবাজার থানার আধীন পূর্ব নোয়াগাঁও এলাকায় সাড়ে চয় বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ এই অভিযোগ গ্রেপ্তার করা হয়েছে নাবালিকার পরিচিত এক কাকাকে৷ তার নাম দেবেশ দেব৷ পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে৷ বিচারক অভিযুক্তকে জেল হাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন৷ জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সাড়ে ছয় বছরের ঐ নাবালিকাকে তার প্রতিবেশী কাকা দেবেশ দেব চিপস খাওয়ানোর আছিলায় নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়৷ শিশুটির উপর পাশবিক লালসা চরিতার্থ করেছে৷ পরে শিশুটির গোপন অঙ্গে ব্যথা শুরু হয়৷ অভিভাবকরা তার কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানার পর রাণীরবাজার থানায় একটি মামলা করেন৷ মামলার নম্বর ০৮/১৭৷ মামলাটি হয়েছে আইপিসির ৩৭৬ (২) ধারা মোতাবেক৷ সেই সাথে মামলায় যুক্ত করা হয়েছে পক্সো আইনের চার নম্বর ধারা৷ পুলিশ মামলা নিয়েই নিজ বাড়ি থেকে দেবেশ দেবকে গ্রেপ্তার করেছে৷ পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে৷ অন্যদিকে শিশুটির মেডিকেল ট্যাস্টও করা হয়েছে৷
এদিকে, একই থানার অধীন রাণীরগাঁও এলাকায় আরও এক নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়েছে৷ জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে এক যুবক ভবেশ নাথ (৩২) প্রতিবেশীর বাড়িতে প্রবেশ করে৷ বাড়িতে নাবালিকাটি একাই ছিল৷ নির্জনতার সুযোগ নিয়ে ভবেশ নাথ ঐ নাবালিকার উপর ঝাপিয়ে পড়ে৷ মুখে চাপা দিয়ে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ৷ এই ব্যাপারে রাণীরবাজার থানায় একটি মামলা করা হয়েছে৷ এদিকে, মামলা নিয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে৷ এদিকে এলাকার জনগণ রাণীরবাজার থানায় গিয়ে এদিন অভিযুক্ত যুবকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন৷ জানা গিয়েছে গত তিন মাসে রাণীরবাজার থানায় পাঁচটি ধর্ষণের মামলা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে৷
অন্যদিকে, সুকল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে৷ ঘটনাটি ঘটেছে কদমতলা থানার অধীন বকবকি গ্রামে৷ এই ঘটনার সাথে যুক্ত জুয়েল দাস নামে এক যুবককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে৷ তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়৷ বিচারক অভিযুক্তকে জেল হাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে৷ সংবাদে প্রকাশ, একাদশ শ্রেণীর ঐ ছাত্রী সুকল থেকে বাড়ি ফিরছিল৷ তখন রাস্তায় তাকে আটক করে এলাকারই জুয়েল দাস৷ নাবালিকা ছাত্রীকে জুয়েল তার এক নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যায়৷ সেখানে দফায় দফায় ধর্ষণ করে৷ এদিকে, নাবালিকার বাবা কদমতলা থানায় মেয়েক অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন৷ সেই অভিযোগমূলে কদমতলা থানায় যে মামলা রুজু হয়েছে, তার নম্বর ১২/১৭৷ মামলাটি হয়েছে ৩৬৩, ৩৫৪(বি) এবং ৩৭৬ আইপিসি মোতাবেক৷ পুলিশ মামলা নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে অভিযুক্ত জুয়েল দাসকে৷ বর্তমানে সে জেল হাজতে রয়েছে৷ এদিকে, একটি সূত্রে জানা গিয়েছে অভিযুক্ত জুয়েল দাসের সাথে ঐ সুকলছাত্রীর ভালবাসার সম্পর্ক ছিল৷ যদিও ঐ ছাত্রীর বাবা মেয়ের ভালবাসার সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে৷
এদিকে, আমতালী থানার অধীন হরিপুর এলাকা থেকে এক সুকল ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছে বলে খবর মিলেছে৷ এই ব্যাপারে অপহরণকারীর নামধাম জানিয়ে আমতলী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে৷ সংবাদে প্রকাশ, হরিপুর এলাকার বাসিন্দা সুমন শীল এলাকারই এক সুকলছাত্রীকে অপহরণ করেছে বলে অভিযোগ৷ জানা গিয়েছে ঐ ছাত্রী মামার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করে৷ স্থানীয় একটি সুকলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী ঐ ১৫ বছরের ঐ নাবালিকা৷ বৃহস্পতিবার তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে৷ একটি সূত্রে জানা গিয়েছে প্রণয়ের সূত্র ধরেই এই অপহরণের ঘটনা৷ তবে মেয়েটির অভিভাবকের অভিযোগ সুমন শীল অপহরণ করেছে৷ পুলিশ মামলা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে তল্লাসী চালিয়ে যাচ্ছে অপহৃতা সুকলছাত্রীকে উদ্ধার করার জন্য৷
আরও এক সুকলছাত্রী অপহরণের অভিযোগ উঠেছে৷ ধলাই জেলার কমলপুর থানার অধীন অপরেশকর গ্রামের ঐ সুকলছাত্রীর রহস্যজনক অন্তর্ধান ঘিরে স্থানীয় জনমনে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে৷ তবে ঐ সুকলছাত্রীকে অপরহরণ করা হয়েছে বলে কমলপুর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে৷ মামলার নম্বর ২১/১৭৷ মামলাটি হয়েছে আইপিসি’র ৩৬৩ ধারা মোতাবেক৷ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ৷ মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে অন্তর দেববর্মা নামে এলাকারই এক যুবককে৷ অভিযোগ করা হয়েছে, দশম শ্রেণীর ঐ ছাত্রীকে অন্তর দেববর্মা অপহরণ করেছে৷ যদিও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্তরের সাথে ঐ সুকলছাত্রীর প্রণয়ের সম্পর্ক রয়েছে৷ তাই আশঙ্কা করা হয়েছে প্রণয়ের সূত্র ধরেই প্রেমিক প্রেমিকার পলায়ন৷ তবে ঐ সুকলছাত্রীর অভিভাবকরা যেহেতু অপহরণের অভিযোগ করেছেন তাই পুলিশ মামলা নিয়ে অন্তর দেববর্মা সহ ঐ সুকলছাত্রীকে উদ্ধার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে তল্লাসী চালিয়ে যাচ্ছে৷
2017-03-25
