আগরতলা, ২৩ মার্চ(হিঃস)৷৷ ত্রিপুরা তৃণমূলে ভাঙন অব্যাহত৷ এবার ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) তে যোগ দিয়েছেন প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান রতন চক্রবর্তী৷ বৃহস্পতিবার সদলবলে বিজেপিতে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রদেশ চেয়ারম্যান তথা প্রাক্তন মন্ত্রী রতন চক্রবর্তী৷ বিজেপিতে তাদের স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় রেল রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজেন গৌহাই৷ রতন চক্রবর্তী সঙ্গে তৃণমূ ল কংগ্রেসে রাজ্য কমিটির ৪১ জন পদাধিকারী সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের আরও প্রায় দেড়শ জন নেতা কর্মী বিজেপিত সামিল হয়েছে৷ প্রাক্তন কংগ্রেসের মন্ত্রী রতন চক্রবর্তী এর আগে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল যোগ দেন৷ দলের রাজ্য কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন৷ গতকালই তৃণমূল ছাড়েন তিনি৷ আজ যোগ দেন বিজেপিতে৷ তাঁর সঙ্গে এদিন বিজেপিতে যোগ দেন সত্যনারায়ন দে, মানিককুমার সাহা সহ একেই সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য কমিটির ৪১ জন পদাধিকারী সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের আরও প্রায় দেড়শজন নেতা কর্মী ঘাস ফুলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়ে পদ্ম শিবিরে সামিল হয়েছেন৷ বিজেপিতে যোগ দেন কংগ্রেস নেতা রাজীন সমাদ্দারও৷ কেন্দ্রীয় রেল রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজেন গৌহাই ছাড়া এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপি-র প্রদেশ সভাপতি বিপ্লব দেব, নেতা সুনীল দেওধর সহ অন্যরা৷ এদিন বিজেপিতে যোগ দিয়েই রতন চক্রবর্তী ছারাও রাজীব সমাদ্দার ক্ষমতাসীন সিপিআইএম সহ তৃণমূলের বর্তমান নেতাদের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছেন৷
এদিন নবাগতদের স্বাগত জানাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় রেল রাষ্ট্রমন্ত্রী রাজেন গৌহাই বলেন, আগামী বিধানসভার নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ত্রিপুরায় ক্ষমতায় আসছে বিজেপি৷ রাজ্যের সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশা নিরসন্তুেন সহায়ক ভূমিকা নিতে পারে৷ আর রতন চক্রবর্তী মত লড়াকু নেতারা বিজেপিতে সামিল হওয়ার ফলে পার্টির কাজে গতি আসবে৷
প্রাক্তন তৃণমূল নেতা রতন চক্রবর্তী বলেন, শক্তিশালী ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে আমি বিজেপিতে যোগদান করেছি৷ আমাদের লড়াই বামফ্রন্টের বিরুদ্ধ৷ দুই যুগ ধরে মানুষকে লুট করেছে ওরা৷ চাকরির ক্ষেত্রে হয়েছে অনিয়ম, দলবাজি৷ শ্রমিকদের বঞ্চনার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে৷ আর উত্তর পূর্বের মানুষের বঞ্চনা দূর করতে এগিয়ে এসেছে বিজেপি৷ কেন্দ্রের বর্তমান সরকার ত্রিপুরা সহ উত্তরপূর্বাঞ্চলের উন্নয়নে যে ভূমিকা নিয়েছে তা ইতিপূর্বে কোন সরকাই নিতে পারেনি৷ স্বাধীনতার পর কোন সরকারের মন্ত্রীরাই এভাবে ত্রিপুরার মত প্রত্যন্ত রাজ্যের নিয়মিত সফরে আসেননি৷ প্রকৃত অর্থে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারই এ রাজ্যে উন্নতি চাইছে৷ তিনি আশাবাদী, ২০১৮ তে ত্রিপুরায় সরকার গড়বে বিজেপি৷ তাঁর অভিযোথগ, কংগ্রে, তৃণমূল কংগ্রেস ভোট ব্যাঙ্কের রাজনীতি করে৷ বিজেপিকে হিন্দুত্ববাদীর তকমা দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু, উত্তরপ্রদেশের মানষ বুঝিয়ে দিয়েছে বিজেপি জাতপাতের উধের্ব উঠে কাজ করে৷ আমাদের লক্ষ্য একটাই, মানুষের পাশে দাঁড়ানো৷ পদের লাভ থাকলে কেউ দল করবেনা৷ স্বামীজির আদর্শে লড়াই করুন৷ মোদীজির নেতৃত্বে নতুন ভারত গড়ে উঠছে তাতে সবাই সামিল হন৷ ত্রিপুরায় তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ উগড়ে দেন রতনবাবু৷ বলেন, এই নেতা, বিধায়কদের জন্য ধীরে ধীরে শুকিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল৷ মতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমার কোনও অভিযোগ নেই৷ কিন্তু, যাঁদের হাতে তিনি ত্রিপুরা তুলে দিয়েছেন তাঁদের প্রতি মানুষের ভরসা নেই৷ সিপিএম যখন দলীয় কর্মীদের বাড়িয়ে আগুন লাগায় তখন ঐ নেতারাই মোবাইল ফোনের সম্পর্ক ছিন্ন করে দিয়ে ভ্রমণে চলে যান৷ কেউ সাহায্য করছেন না৷ এরা এখন জন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন৷ তাহলে মানুষের আস্থা থাকবে কী করে? রাজ্যের সিপিআইএম সরকার জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে৷ আর বিজেপি কেই তারা আসার আলো দেখছেন৷ এক্ষেত্রে তৃণমূলের শুরু দায়িত্ব যে সব নেতার কাছে রয়েছে তারা বরাবরই সিপিএম এর জন্য সহায়ক ভূমিকা নিয়েছেন৷ তৃণমূল নেতারা মানিক সরকারের দালাল হিসেবে কাজ করছেন৷ তিনি বলেন, মানুষ তাদের বুঝে ফেলেছে৷ রাজ্যের নিপীড়িত মানুষদের এখন অন্তিম লক্ষ্য বিজেপি৷ তৃণমূল বিধায়কদের অধিকাংশ বিজেপিতে যোগদান করতে পারে বলেও জানিয়ে দেন তিনি৷ সম্প্রতি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি তথা প্রাক্তন মন্ত্রী সুরজিৎ দত্তও৷ তবে রতন চক্রবর্তীর বিজেপিতে সামিল হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস বেজোর ধাক্কা খেল বলে অনুমান হচ্ছে৷
2017-03-24

