নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ মার্চ৷৷ সরকারি আইনজীবীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নিজেও বাঁচলেন এবং আইন সচিব ও রাজ্য সরকারকেও বাঁচিয়ে দিলেন আইনজীবী অভিজিৎ ঘোষ৷
ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় উচ্চ আদালতে সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ ঘোষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ণ উঠে৷ বিধানসভায় বিরোধীরা সরকারি আইনজীবীকে তার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিতে সোচ্চার হন৷ কংগ্রেস বিধায়ক রতন লাল নাথ ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় সরকারি আইনজীবীর বিষয়ে উচ্চ আদালতের মুখ্যবিচারপতির রায় বিধানসভায় তুলে ধরেন এবং সরকার পক্ষের ওপর তাঁকে পদ থেকে অব্যাহতি দিতে চাপ সৃষ্টি করেন৷ চাপের মুখে আইনমন্ত্রী তপন চক্রবর্তী আজ বিধানসভায় সরকারি আইনজীবীর ভূমিকা নিয়ে বিবৃতি দেন৷
এদিন আইনমন্ত্রী জানান, সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন তিনি ঐ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন৷ আইন দপ্তর তাঁর ইস্তফা গ্রহণ করেছে৷ আইনমন্ত্রীর এই বিবৃতিতে বিরোধীরা সদস্যরা সন্তুষ্ট হতে পারেননি৷ কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল রায় বলেন, ইস্তফা দিলেই সমস্ত অন্যায় মাফ করে দেওয়া যায় না৷ ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় সরকারি আইনজীবীর ভূমিকা উচ্চ আদালতে কেন এমন ছিল তার তদন্ত হওয়া দরকার৷ কংগ্রেস বিধায়ক রতনলাল নাথও বলেন, সুপ্রিমকোর্ট সাম্প্রতিক রায়ে বলেছে, কোন মামলায় সরকারি আইনজীবী তার দায়িত্ব পালন না করলে এর পেছনে আর্থিক লেনদেন রয়েছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা উচিত৷ এই রায় উল্লেখ করে বিরোধীরা সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধেও আরো তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি জানান৷ কিন্তু, অধ্যক্ষ রমেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ এবিষয়টি এখানেই সমাপ্ত করার জন্য বিরোধীদের কাছে আবেদন জানান৷ অধ্যক্ষের বক্তব্য, সরকারি আইনজীবী পদে যেহেতু অভিজিৎ ঘোষ ইস্তফা দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে নতুন করে আর তদন্ত করার প্রয়োজনীয়তা রইল না৷ কিন্তু বিরোধীরা বারবার অভিজিৎ ঘোষের বিরুদ্ধে আরো তদন্ত দরকার বলে দাবি জানালেও অধ্যক্ষের কড়া হস্তক্ষেপে বিষয়টি নিয়ে আর কথা বাড়াননি বিরোধী সদস্যরা৷
তাতে ধারণা করা হচ্ছে, হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন আইনসচিব দাতামোহন জমাতিয়া৷ এরই সাথে কলঙ্কিত হওয়ার হাত থেকে বেঁচে গেছে রাজ্য সরকারও৷ কারণ, কংগ্রেস বিধায়ক বীরজিৎ সিনহা যখন বিষয়টি বিধানসভায় উত্থাপন করেছিলেন তখন আইনসচিব দাতামোহন জমাতিয়ার ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এর তদন্ত করার জন্য৷ আইন সচিবের তদন্তক্রমে দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে আইনমন্ত্রী বিধানসভায় দাবি করেছিলেন, প্রয়োজনীয় নথির অভাবে সরকারি আইনজীবী আদালতে জামিনের বিরোধিতায় কোন সওয়াল করতে পারেননি৷ শুধু তাই নয়, আইনমন্ত্রী জোর গলায় দাবি করেছিলেন, সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ ঘোষ বহু মামলা দক্ষতার সাথে পরিচালনা করেছেন৷ ফলে, তার ওপর আস্থা রাখতেই হবে৷ কিন্তু উচ্চ আদালতের মুখ্যবিচারপতির রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্ষণ এবং খুনের মামলায় সরকারি আইনজীবীর আসল ভূমিকা প্রকাশ্যে চলে আসে৷ তাতে, রাজ্য সরকারের পক্ষে সরকারি আইনজীবী অভিজিৎ ঘোষকে কোনভাবেই বিরোধীদের অভিযোগ থেকে বাঁচানো সম্ভব ছিল না৷ তাই ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি আইনজীবীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে আইনজীবী অভিজিৎ ঘোষ নিজেও বেঁচে গেলেন এবং আইনসচিব দাতামোহন জমাতিয়া ও রাজ্য সরকারকে কলঙ্কের হাত থেকে বাঁচিয়ে দিয়ে গেলেন৷ তথ্যভিজ্ঞমহলের মতে, এই পদক্ষেপে ‘সাপও মরল, আবার লাঠিও ভাঙল না’৷

