আগরতলা, ৭ অক্টোবর: রাজ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল ত্রিপুরা মন্ত্রিসভা। শিক্ষা, প্রাণিসম্পদ বিকাশ, আইন, অর্থ, সমাজকল্যাণ-সহ বিভিন্ন দপ্তরে ১,৫০৭টি পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে গঠন করা হবে ত্রিপুরা স্টাফ সিলেকশন কমিশন। মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী।
এদিন তিনি জানান, শিক্ষা দপ্তরের অধীনে মাধ্যমিক শিক্ষায় নবম ও দশম শ্রেণির জন্য স্নাতক শিক্ষক পদে ৭০০টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ১৪৫টি, আইন দপ্তরের বিভিন্ন শাখায় গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি মিলিয়ে ৫৫টি, অর্থ দপ্তরে গ্রুপ-বি প্রোগ্রামার পদে ১৪টি এবং সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরে ব্লাইন্ড এডুকেটর পদে ৫টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ৯১৯টি নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরে ৫৮৮টি শূন্যপদ পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শিক্ষা দপ্তরের বুনিয়াদি শিক্ষায় স্নাতক ও অস্নাতক শিক্ষক মিলিয়ে ৩৬১টি পদ রয়েছে। স্নাতক শিক্ষকের ৭৫টি এবং অস্নাতক শিক্ষকের ২৮৬টি পদ পূরণ করা হবে।
এদিন তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞান ও পরিবেশ দপ্তরে করণিকের ৮টি, আগরতলা পুর নিগমে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২১৩টি এবং আইন দপ্তরে গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি মিলিয়ে ৬টি শূন্যপদ পূরণ করা হবে।
এদিন তিনি বলেন,মন্ত্রিসভার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল ত্রিপুরা স্টাফ সিলেকশন কমিশন গঠন। রাজ্য সরকারের অধীন গ্রুপ-বি, গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এই কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুসংগঠিত করাই এই কমিশন গঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে উৎসবের মরশুমে রাজ্যের রেশন কার্ডধারী পরিবারগুলির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। চলতি বছরের অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে সরকারি ন্যায্য মূল্যের দোকানের মাধ্যমে রেশন কার্ডধারীদের বিনামূল্যে সুজি, ময়দা ও চিনি বিতরণ করা হবে। এই বিশেষ উৎসবকালীন বরাদ্দের ফলে রাজ্যের প্রায় ৯.৯২ লক্ষ রেশন কার্ডধারী পরিবার উপকৃত হবে।
তাঁর কথায়, এই সিদ্ধান্তগুলির মাধ্যমে একদিকে যেমন রাজ্যে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে সরকারি দপ্তরগুলিতে মানবসম্পদ আরও শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি উৎসবের মরশুমে সাধারণ মানুষের জন্যও সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।



















