গুরগ্রাম, ৭ অক্টোবর (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২৫ বছরের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক নেতৃত্বকে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে ‘স্বর্ণযুগ ও রূপান্তরকারী অধ্যায়’ হিসেবে অভিহিত করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বুধবার হরিয়ানার গুরগ্রামের মহারানা প্রতাপ স্বর্ণ জয়ন্তী পার্কে আয়োজিত ‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা–সেবা জ্যোতি যাত্রা’য় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, মোদির ২৫ বছরের জনজীবন গরিবের কল্যাণ, জাতীয় নিরাপত্তা, ভারতের বিশ্বমর্যাদা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের নানা উদ্যোগে চিহ্নিত হয়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদির জনজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশের প্রতিটি জেলায় একই ধরনের ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ আয়োজন করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অমিত শাহ সাধারণ মানুষকে বিপুল সংখ্যায় এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং সেবা, নিষ্ঠা ও দেশগঠনের বার্তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আবেদন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বড় পর্দায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ সম্প্রচার করা হয়। এরপর অমিত শাহ এবং হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়ব সিং সাইনি আনুষ্ঠানিকভাবে মশাল প্রজ্বলন করেন এবং তরুণ অংশগ্রহণকারীদের হাতে ‘সেবা জ্যোতি’ তুলে দিয়ে প্রায় ৮০০ মিটার দূরের একটি চৌমাথার উদ্দেশে যাত্রার সূচনা করেন। সেখানে সেবার চেতনা ও জাতীয় উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে মশালটি স্থাপন করা হয়।
অমিত শাহ বলেন, ৭ অক্টোবর ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। তাঁর কথায়, সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজের দক্ষতা ও নেতৃত্বের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে টানা ২৫ বছর দেশসেবার নজির তৈরি করেছেন এবং এই দীর্ঘ যাত্রায় কোটি কোটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যখন ভারতের ইতিহাস লেখা হবে, তখন প্রধানমন্ত্রী মোদির জনজীবনের ২৫ বছর ‘স্বর্ণাক্ষরে’ লেখা থাকবে। তাঁর দাবি, এই সময়কালে দেশের গরিব মানুষের কল্যাণ, জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য কাজ হয়েছে।
মোদির ২৫ বছরের নেতৃত্বের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরে অমিত শাহ দারিদ্র্য দূরীকরণ, জাতীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করা, সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল, নকশালবাদ নির্মূল, রাম জন্মভূমিতে মন্দির নির্মাণ এবং কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের উন্নয়নের উল্লেখ করেন। পাশাপাশি দেশের পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় অগ্রগতির দাবি করেন তিনি। অমিত শাহের দাবি, এই সময়কালে ২৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠে এসেছেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদির ২৫ বছরের সাংবিধানিক নেতৃত্ব মূলত ‘ভারতের কল্যাণ, গরিবের কল্যাণ এবং ভারতের গৌরবের’ যাত্রা। দেশের প্রতিটি জেলায় ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’ আয়োজনের উদ্দেশ্য হল এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে স্মরণীয় করে তোলা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সেবা ও নিষ্ঠার বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
অমিত শাহ বলেন, মোদির নেতৃত্বের প্রথম পর্যায়ে গুজরাটের উন্নয়ন এবং পরবর্তী সময়ে গোটা দেশের কোটি কোটি মানুষের কল্যাণে কাজ হয়েছে। তাঁর মতে, এই ২৫ বছর একইসঙ্গে ভারতের গৌরবের ২৫ বছর। বিশেষ করে দেশের তরুণদের ‘সেবা জ্যোতি যাত্রা’য় অংশ নিয়ে দেশগঠনের বৃহত্তর কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদির দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য এবং আগামী বহু বছর দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়ব সিং সাইনি, বিজেপির হরিয়ানা রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত নেত্রী স্মৃতি ইরানি, হরিয়ানা বিজেপির সভাপতি অর্চনা গুপ্তা এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রাও ইন্দরজিৎ সিং-সহ দলের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন।
–আইএএনএস
























