নয়াদিল্লি, ৭ অক্টোবর (আইএএনএস): সরকারের প্রধান হিসেবে ২৫ বছর পূর্ণ করার প্রেক্ষিতে নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও সেখান থেকে পাওয়া শিক্ষার কথা তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ২০০১ সালের ভুজ ভূমিকম্প, মোরবির বন্যা এবং কোভিড-১৯ মহামারির মতো ঘটনাগুলি তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে বলে বুধবার জানালেন তিনি।
‘বিকশিত ভারত সংকল্প সভা’-য় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেখার আগ্রহ তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এখনও নিজেকে একজন ছাত্র হিসেবেই মনে করেন তিনি। প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করেন বলেও জানান মোদি।
তিনি বলেন, “আমি যখন আজ পিছনে ফিরে তাকাই, তখন শুধু কৃতজ্ঞতাই অনুভব করি। যে মানুষ এবং যে ঘটনাগুলি আমাকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের কাছে আমি কৃতজ্ঞ।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা তাঁকে জিততে সাহায্য করেছেন, তাঁরা তাঁকে বিনয়ী থাকতে শিখিয়েছেন। যারা তাঁকে পিছনে ঠেলে দিয়েছেন, তাঁরা আবার উঠে দাঁড়াতে শিখিয়েছেন। শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁকে উৎসাহ দিয়েছেন, সমালোচকরা নিজের দিকে ফিরে তাকাতে শিখিয়েছেন। যারা তাঁকে সমর্থন করেছেন, তাঁরা বিশ্বাসের শক্তি বুঝিয়েছেন এবং বিরোধিতা করেছেন যারা, তাঁরা গণতন্ত্রের শক্তি উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছেন।
মোদি বলেন, প্রতিটি সংকট তাঁর ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েছে, প্রতিটি সাফল্য দেশের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধ আরও গভীর করেছে এবং প্রতিটি অর্জন আরও বড় লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও সংকল্প জুগিয়েছে। তাঁর কথায়, জীবনের কোনও ঘটনাই বৃথা যায়নি, প্রতিটি ঘটনাই তাঁকে কিছু না কিছু শিখিয়েছে।
মোরবির বন্যার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই ঘটনা তাঁকে দিন-রাত ত্রাণ ও পরিষেবা কাজে যুক্ত থাকার পথ দেখিয়েছে এবং সেবার মানসিকতা শিখিয়েছে। ২০০১ সালের ভুজ ভূমিকম্প তাঁকে পুনর্গঠনের কাজে দৃঢ় থাকার শিক্ষা দিয়েছে বলেও জানান তিনি।
চন্দ্রযান অভিযান তাঁকে ব্যর্থতার পরেও ঘুরে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিয়েছে বলে উল্লেখ করেন মোদি। অন্যদিকে কোভিড-১৯ মহামারি তাঁকে দেশের সম্মিলিত চেতনার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
নিজের রাজনৈতিক যাত্রায় সংবাদমাধ্যমের ভূমিকারও প্রশংসা করেন মোদি। তাঁর দাবি, তিক্ত ও মধুর—দুই ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই সংবাদমাধ্যম তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
তিনি বলেন, জীবনের প্রতিটি যাত্রা তাঁকে নীতিনির্ধারণে সংবেদনশীলতা আনার পথ দেখিয়েছে। দেশের প্রতিটি গ্রাম এবং প্রতিটি দরিদ্র মানুষ তাঁকে শিখিয়েছেন যে সম্পদ সীমিত হতে পারে, কিন্তু স্বপ্ন বড় হওয়া উচিত এবং সংকল্প দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশবাসীর আস্থা ও তাঁদের পরিশ্রমই সবসময় তাঁর “সবচেয়ে বড় শক্তি”। ২৫ বছর ধরে দেশবাসী তাঁকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়ায় তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।
মোদি বলেন, গত ২৫ বছরের জনআস্থা ও অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। তবে এই সম্পদ শুধু তাঁর নয়, গোটা দেশের। ভারতের প্রতিটি নাগরিক এই সম্পদের অংশীদার বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।



















