চেন্নাই, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল মানুষদের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের সুযোগ আরও সহজ করতে তামিলনাড়ুর সমবায় ব্যাঙ্ক ও সমিতিগুলিতে সোনার ঋণের পরিমাণ প্রতি গ্রামে ৭ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে ‘থাই মামান থাঙ্গা মোথিরাম থিট্টাম’ নামে একটি প্রকল্প চালু হওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের জন্য এই প্রকল্পে ২২ ক্যারেট সোনার এক গ্রাম ওজনের আংটি দেওয়া হয়।
সরকারি হাসপাতালগুলিতে বছরে গড়ে প্রায় ৪.৪ লক্ষ শিশুর জন্ম হয়। ফলে এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪৪১ কেজি সোনা বাজারে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সোনার ঋণের সীমা বাড়ানোর উদ্দেশ্য হল আরও বেশি মানুষকে সমবায় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঋণ নিতে উৎসাহিত করা এবং বেসরকারি মহাজন ও বন্ধকী ঋণদাতাদের উপর নির্ভরতা কমানো।
এর আগে সমবায় ব্যাঙ্ক ও সমিতিগুলি বন্ধক রাখা গয়নার মূল্যের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দিত। তবে সর্বোচ্চ সীমা ছিল প্রতি গ্রামে ৭ হাজার টাকা। ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধযোগ্য ঋণের ক্ষেত্রে মাসিক গড় সোনার মূল্যের ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগ ছিল, যেখানে প্রতি গ্রামের নির্দিষ্ট সীমা ছিল না।
নতুন সীমা চালু হওয়ায় সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলির ঋণ দেওয়ার পরিমাণ অন্যান্য ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি এল। সোমবার সোনার দাম ছিল প্রতি গ্রামে ১৩,৬৭৫ টাকা। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি প্রতি গ্রামে প্রায় ৯,৬০০ থেকে ১০,৪০০ টাকা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলি ৮,৮০০ থেকে ৯,৩০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়। বেসরকারি বন্ধকী সংস্থা, ঋণভিত্তিক এনবিএফসি এবং ট্রেডিং সংস্থাগুলি প্রায় ১০,৫০০ থেকে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়। ব্যাঙ্কগুলির সুদের হার ১৪ থেকে ১৮ শতাংশের মধ্যে।
সমবায় দফতর গত বছর সোনার ঋণের সুদের হার ১২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৩ শতাংশ করেছিল। আধিকারিকদের আশা, ঋণের সীমা বাড়ায় আরও বেশি মানুষ সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেবেন এবং একই গয়নার বিনিময়ে তুলনামূলকভাবে বেশি অর্থ পাবেন।
এদিকে, সমবায় সমিতির রেজিস্ট্রারের দফতরে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রাইমারি এগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ ক্রেডিট সোসাইটি বা প্যাকসগুলির মুনাফার হার ২.২৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্ক থেকে ক্যাশ ক্রেডিটের মাধ্যমে অর্থ নিয়ে প্যাকসগুলি যে সোনার ঋণ দেবে, তার সুদের হার সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্কের শাখা থেকে সরাসরি দেওয়া সোনার ঋণের সুদের হারের চেয়ে ১.২৫ শতাংশ কম হবে।
এই সিদ্ধান্তগুলির মাধ্যমে বন্ধক রাখা সোনার বিপরীতে ঋণের পরিমাণ এবং সমবায় সমিতির মাধ্যমে দেওয়া ঋণের সুদের হার—দুই ক্ষেত্রেই সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।



















