কৈলাসহর, ৬ অক্টোবর: কৈলাসহরের গৌরনগর আরডি ব্লকের রাঙ্গাউটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীপুর গ্রামে ফের নাশকতার অভিযোগ। মধ্যরাতে এক অসহায় পরিবারের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেছে পরিবারের ঘরবাড়ি ও ঘরের ভিতরে থাকা একাধিক সামগ্রী। সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবীপুর গ্রামের বাসিন্দা নেখজান বিবি, স্বামী মৃত জইর আলীর বাড়িতে সোমবার গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আনুমানিক রাত ১২টা নাগাদ আচমকাই ওই বসতঘরে আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। পরিবারের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে দুষ্কৃতীরা ঘরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা গোটা ঘরকে গ্রাস করে নেয়। খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীকে। তবে দমকল কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই ঘরটির অধিকাংশ অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
পরিবারের দাবি, অগ্নিকাণ্ডে ঘরের ভিতরে থাকা একটি পালসার বাইক, একটি বাইসাইকেল, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়সহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও সমস্ত সামগ্রী হারিয়ে কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছে পরিবারটি।
ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় বিশেষ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলটি বিএসএফের ৫৫ নম্বর গেট থেকে মাত্র প্রায় ১৫ মিটার দূরে। এমন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে কীভাবে দুষ্কৃতীরা এসে একটি বসতঘরে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। ঘটনায় বিএসএফের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
ঘটনার খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে যান রাঙ্গাউটি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য নুরুল ইসলাম ওরফে মুকুল এবং পঞ্চায়েত সদস্য নজরুল ইসলাম। তারা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনায় সমবেদনা জানান। পাশাপাশি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান তারা।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।



















