নয়াদিল্লি, ৫ অক্টোবর (আইএএনএস): পাঞ্জাবের অমৃতসরে বাড়ি ফেরার পথে তিন অজ্ঞাতপরিচয় বাইক আরোহীর গুলিতে জখম হলেন রাজ্য পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক বা এএসআই। আহত পুলিশকর্মীর নাম সুখচৈন সিং। তিনি বর্তমানে অমৃতসর সরকারি রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) অধীনে কর্মরত। এই ঘটনায় পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ভগবন্ত মানের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছে বিজেপি। বিজেপি সাংসদ রবনীত সিং বিট্টু অভিযোগ করেছেন, রাজ্যে পুলিশকর্মীরাও নিরাপদ নন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার ডিউটি শেষ করে নিজের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন সুখচৈন সিং। অজনালা থানার অধীন জগদেব খুর্দ গ্রামে তাঁর বাড়ি। গ্রামের কাছে একটি খালের সেতুর কাছে পৌঁছতেই অন্য একটি মোটরসাইকেলে আসা তিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি তাঁকে লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলি চালায়।
ডিএসপি ধর্মেন্দ্র কল্যাণ জানান, গুলিটি সুখচৈন সিংয়ের বাঁ কাঁধে লাগে এবং শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর এফআইআর দায়ের করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে হামলার পিছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপি সাংসদ রবনীত সিং বিট্টু পাঞ্জাব সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্যে আর কত পুলিশকর্মী হামলার শিকার হবেন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ করছে।
বিট্টুর অভিযোগ, পাঞ্জাবে প্রায় প্রতিদিনই গুলি চালানো, খুন এবং তোলাবাজির মতো ঘটনা ঘটছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের মানুষ ক্রমশ দুষ্কৃতীদের আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এর আগেও তিনজন এএসআই প্রাণ হারিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। এবার ফের পুলিশকর্মীকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটল।
বিজেপি সাংসদ প্রশ্ন তোলেন, পুলিশকর্মীরাই যদি নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিজেদের নিরাপদ বলে মনে করবেন? তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকারের প্রচার ও রাজনৈতিক কার্যকলাপের পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ করা প্রয়োজন।
বিট্টু পাঞ্জাবের বর্তমান পরিস্থিতিকে রাজ্য সরকারের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে তুলনা করে বলেন, রাজ্যের মানুষ নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখতে চান। তাঁর মতে, দিনের আলোয় খুন, তোলাবাজি এবং পুলিশকর্মীদের উপর হামলার মতো ঘটনা সরকারের কাছে গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীদের পরিচয় এবং আক্রমণের উদ্দেশ্য জানতে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।



















