গুয়াহাটি, ৫ অক্টোবর (আইএএনএস): উন্নয়নের পাশাপাশি রাজ্যের সমৃদ্ধ ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে এগিয়ে চলেছে অসম। আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে প্রাচীন ঐতিহ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে নতুন অসম গড়ে তোলার উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সোমবার বিশ্ব স্থাপত্য দিবস উপলক্ষে রাজ্যের স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের গুরুত্ব তুলে ধরে এই মন্তব্য করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রংঘর থেকে কামাখ্যা মন্দির—অসম বরাবরই অসাধারণ স্থাপত্যশৈলীর জন্য পরিচিত। রাজ্যের ঐতিহাসিক স্থাপত্যের এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই আধুনিক অসম নতুন নতুন স্থাপনা ও নকশার মাধ্যমে উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে।
হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, বিশ্ব স্থাপত্য দিবসে আধুনিক অসম কীভাবে তার সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তা তুলে ধরা প্রয়োজন। উন্নয়ন ও ঐতিহ্য—দুইয়ের সমন্বয়ে আধুনিক স্থাপনা ও স্থাপত্যশৈলী গড়ে তোলাই রাজ্যের লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, শিবসাগরে অবস্থিত রংঘর অসমের আহোম যুগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক স্থাপত্য। দোতলা এই স্থাপনাটি রাজপরিবারের খেলাধুলা ও বিনোদন দেখার মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত হত। এর স্বতন্ত্র স্থাপত্যশৈলী আজও অসমের ঐতিহাসিক গৌরবের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
অন্যদিকে, গুয়াহাটির নীলাচল পাহাড়ে অবস্থিত কামাখ্যা মন্দির অসমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এর ঐতিহাসিক গুরুত্বের পাশাপাশি বিশেষ স্থাপত্যশৈলীও পর্যটক ও দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
রাজ্য সরকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থানের পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে উন্নয়নের ধারায় ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলির নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, অসমের উন্নয়ন পরিকল্পনায় আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য সংরক্ষণও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। ‘বিকাশ ও বিরাসত’—এই ভাবনাকেই সামনে রেখে আধুনিক অসমকে নতুনভাবে তুলে ধরতে চাইছে রাজ্য সরকার।



















