মুম্বই, ২ অক্টোবর (আইএএনএস): মহাত্মা গান্ধীর জন্মবার্ষিকীতে তাঁর আদর্শের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে শাসকপক্ষের সমালোচনা করলেন মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) প্রধান রাজ ঠাকরে। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে মূর্তিতে মাল্যদান বা ছবি তোলার মধ্যে গান্ধীকে স্মরণ সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। গণতন্ত্রকে কার্যকর রাখতে গান্ধীর মূল শিক্ষাগুলিকে অনুসরণ করা প্রয়োজন।
এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে রাজ ঠাকরে বলেন, বর্তমানে মহান ব্যক্তিত্বদের স্মরণ অনেক সময় তাঁদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে সীমাবদ্ধ থাকে। মূর্তিতে মাল্যদান, ছবি তোলা এবং স্মৃতিসৌধের সামনে দাঁড়ানোই যেন শ্রদ্ধা জানানোর প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের প্রসঙ্গ তুলে রাজ ঠাকরে জনসমক্ষে প্রশ্ন তোলার অধিকার এবং ভিন্নমতের গুরুত্বের কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য, মহাত্মা গান্ধীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ছিল সাধারণ মানুষকে ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করার সাহস দেওয়া।
রাজ ঠাকরে অভিযোগ করেন, সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই ক্ষমতাসীনরা এবং তাঁদের সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে সমালোচকদের ‘দেশবিরোধী’ বলে আখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেন। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বাধা, প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় শক্তির প্রয়োগ এবং নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
গান্ধীর সবচেয়ে বড় অবদান হিসেবে রাজ ঠাকরে রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অন্যায় প্রয়োগের বিরুদ্ধে ‘না’ বলার অধিকারকে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “সরকারের হাতে আইন রয়েছে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার শক্তি রয়েছে এবং নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী আইন পরিবর্তনের ক্ষমতাও রয়েছে। কিন্তু গান্ধীজি দেখিয়েছিলেন, এসবের পরেও সরকার সাধারণ মানুষের যুক্তিবোধ বা বিবেকের উপর মালিকানা দাবি করতে পারে না।”
সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্রচারমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের স্বাধীন চিন্তাভাবনা ও সচেতনতা প্রভাবিত করার চেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন এমএনএস প্রধান। ‘হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে পরিচিত বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমের মাধ্যমে জনমত প্রভাবিত করার অভিযোগ তুলে তিনি স্বাধীনভাবে চিন্তা করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
রাজ ঠাকরের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণই চূড়ান্তভাবে সার্বভৌম। সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে রাজনৈতিক আন্দোলন, মিছিল এবং নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী শাসকরা গান্ধীর আদর্শকে স্মরণ করতে পারেন, কিন্তু ভারতীয় গণতন্ত্রের সুস্থতার জন্য শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং নৈতিক সাহসের গান্ধীবাদী চেতনা বজায় রাখা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার রাজ ঠাকরে এবং শিবসেনা (ইউবিটি) প্রধান উদ্ধব ঠাকরে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে ৪ অক্টোবরের প্রস্তাবিত প্রতিবাদ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দলগুলির দাবি, এই মিছিল নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে। এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও তাঁরা প্রশ্ন তুলেছেন।
রাজ ঠাকরে বলেন, ইভিএমে কারচুপি এবং নির্বাচনী অনিয়ম নিয়ে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলে আসছেন। ২০১৭-১৮ সালেও তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন বলে দাবি করেন। ৪ অক্টোবরের মিছিল ভোটারদের ‘অপমান’ এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার অখণ্ডতার প্রশ্নে প্রতিবাদ জানাতেই আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

















