নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ অক্টোবর: রাজ্যে আরও ৫৫টি নতুন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র স্থাপনের মঞ্জুরি পাওয়া গেছে। ধরতি আবা জনজাতি গ্রাম উৎকর্ষ অভিযান-এর আওতায় এই নতুন কেন্দ্রগুলি গড়ে তোলা হবে। নতুন কেন্দ্রগুলি চালু হলে রাজ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মোট সংখ্যা বেড়ে ১০,৫৩৪টি হবে। বর্তমানে রাজ্যে ১০,৪৭৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালু রয়েছে। আজ সচিবালয়ের প্রেস কনফারেন্স হলে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের মন্ত্রী টিস্কু রায়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, জনজাতি অধ্যুষিত ও প্রত্যন্ত এলাকার শিশু ও মায়েদের কাছে পুষ্টি ও অন্যান্য পরিষেবা আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির মঞ্জুরি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু বিকাশ মন্ত্রকের পিএম জনমন-এর আওতায় ৮৩টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পাকা ভবন নির্মাণের জন্য প্রথম কিস্তি হিসেবে মোট ২ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত জাতীয় পারিবারিক সহায়তা প্রকল্প-এর আওতায় দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী কোনও পরিবারের ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সি প্রধান উপার্জনকারীর আকস্মিক মৃত্যু হলে তার পরিবারকে এককালীন ২০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ইতিমধ্যে ৫০৪টি পরিবারকে চিহ্নিত করে এককালীন ২০,০০০ টাকা করে সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হয়েছে। এরজন্য ব্যয় হয়েছে মোট ১ কোটি ৮০ হাজার টাকা।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের মাসিক সাম্মানিক ভাতার পাশাপাশি অতিরিক্ত কিছু সুবিধা ও সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী। তিনি জানান, পোষণ মাস উপলক্ষ্যে প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে কমিউনিটি-বেসড ইভেন্ট আয়োজনের জন্য কেন্দ্র প্রতি ৫০০ টাকা হারে অর্থ প্রদান করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সিডিপিও-দের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা দুর্গাপূজার আগেই এই অর্থ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এরজন্য ১০,৪৭৯টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য মোট ৫২ লক্ষ ৩৯ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে।
তিনি জানান, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের জন্য ইনসেন্টিভ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পোষণ ট্র্যাকার অনুযায়ী ৮০ শতাংশ উচ্চতা ও ওজন পরিমাপ ব্যবস্থাপনা এবং ৬০ শতাংশ হোম ভিজিট সম্পন্নকারী যোগ্য অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে এবং প্রতি মাসে ন্যূনতম ২১ দিন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র খোলা রাখার শর্ত পূরণকারী যোগ্য অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকাকে প্রতি মাসে ২৫০ টাকা হারে ইনসেন্টিভ দেওয়া হচ্ছে। এবছর জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত মোট সাত মাসের ইনসেন্টিভ প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে এবং দুর্গাপূজার আগেই তাঁরা এই অর্থ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এরজন্য মোট ৪ কোটি ৭০ লক্ষ ৮৩ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সরকারি কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের রিচার্জের অর্থ প্রদানের বিষয়ে সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষামন্ত্রী জানান, এবছর এপ্রিল মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত রিচার্জের টাকা ইতিমধ্যে প্রদান করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসের রিচার্জের টাকা প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা দুর্গাপূজার আগেই এই অর্থ পাবেন বলে আশা করা যাচ্ছে। এরজন্য মোট ৫৬ লক্ষ ৫৮ হাজার ৬৬০ টাকা ব্যয় করা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কনটিনজেন্সি বাবদ ১,০০০ টাকা হারে মোট ১ কোটি ৪ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের জন্য ইউনিফর্ম বা শাড়ি- পাঁছড়া কেনার উদ্দেশ্যে জনপ্রতি ১,০০০ টাকা হারে ২ কোটি ৯ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের জন্য মেডিসিন কিট বাবদ ১,৫০০ টাকা হারে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের অর্থ দেওয়া হবে। এরজন্য মোট ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ১৮ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে প্রতিটি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাকে ২,৬১০ টাকা হারে উৎসব অনুদান এবং ৫,০০০ টাকা হারে উৎসবকালীন অগ্রিম প্রদান করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী মাক্র বন্দনা যোজনা (পিএমএমভিওয়াই)-এর অধীনে প্রদেয় ইনসেন্টিভ প্রসঙ্গে তিনি জানান, গর্ভবতী ও প্রসূতি মায়েদের পিএমএমভিওয়াই সুবিধা প্রদানে সহায়তাকারী যোগ্য অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের প্রথম কিস্তির জন্য ১৫০ টাকা, দ্বিতীয় কিস্তির জন্য ১০০ টাকা এবং দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে ২৫০ টাকা হারে পাঁচ মাসের ইনসেন্টিভ দেওয়া হচ্ছে। এরজন্য মোট ১৩ লক্ষ টাকা ব্যয় হবে।
সাপ্লিমেন্টারি নিউট্রিশন প্রোগ্রাম (এসএনপি)-এর ফিডিং বিল প্রসঙ্গে সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু বিকাশ মন্ত্রক থেকে প্রাপ্ত অর্থে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত বকেয়া এসএনপি ফিডিং বিলের অর্থ প্রদান করা হয়েছে। এ বাবদ মোট ২৩ কোটি ৩৯ লক্ষ ৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এছাড়াও ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশু বিকাশ মন্ত্রক থেকে তৃতীয় কিস্তির অর্থ পাওয়া গেছে। ওই অর্থের মাধ্যমে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের এবছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের বকেয়া ফিডিং বিল দ্রুত প্রদান করা হবে।
তিনি বলেন, নতুন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মাধ্যমে রাজ্যের আরও বেশি সংখ্যক শিশু ও মায়ের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। পাশাপাশি পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের জন্য বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দপ্তরের পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ ও সমাজশিক্ষা দপ্তরের বিশেষ সচিব তপন দাস এবং অধিকর্তা লালফাক্টলিঙ্গা রাঞ্চল।
























