নয়াদিল্লি, ১ অক্টোবর (আইএএনএস): দিল্লির উপরাজ্যপাল (এলজি) টি এস সন্ধু বৃহস্পতিবার রোহিণীতে দিল্লি ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (ডিডিএ) একটি নতুন স্পোর্টস কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি তিনি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয় রোহিণীর ‘আরম্ভ লাইব্রেরি’ পরিদর্শন করে তরুণদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শৃঙ্খলা ও দৃঢ় সংকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
রোহিণীর সেক্টর-৩৩-এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এলজি সন্ধু ঘোষণা করেন, তরুণ ক্রীড়াবিদদের উৎসাহিত করা এবং হকির মতো দলগত খেলায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে আগামী ৯ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ‘এলজি কাপ ফর হকি’ আয়োজন করা হবে।
প্রায় ৮.১১ হেক্টর জমির উপর নির্মিত এই স্পোর্টস কমপ্লেক্সটির বিল্ট-আপ এলাকা প্রায় ১০,৯৭৪ বর্গমিটার। রোহিণী, দিল্লির বাইরের অঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম দিল্লির সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের কাছে উন্নতমানের ক্রীড়া পরিকাঠামো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছে।
এরপর রোহিণীর সেক্টর-১১-এর ‘আরম্ভ লাইব্রেরি’তে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এলজি। তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই লাইব্রেরির বিপুল চাহিদা রয়েছে। সেই কারণে লাইব্রেরির একটি অতিরিক্ত তলা ব্যবহার করে আরও ৪০টির বেশি আসনের ব্যবস্থা করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলজি সন্ধু জানান, তিনি দিল্লি সরকারের মন্ত্রী রবিন্দর ইন্দ্রজিত সিংয়ের সঙ্গে লাইব্রেরিটি পরিদর্শন করেন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া তরুণদের সঙ্গে সময় কাটান। তাঁদের প্রস্তুতির রুটিন, সমস্যা ও চাপের বিষয়ে তিনি জানতে চান এবং নিজের ছাত্রজীবনের অভিজ্ঞতাও তাঁদের সঙ্গে ভাগ করে নেন।
তিনি তরুণদের ইতিবাচক, ধারাবাহিক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার পরামর্শ দেন। ব্যর্থতাকে সাফল্যের পথে এগিয়ে যাওয়ার সোপান হিসেবে গ্রহণ করে লক্ষ্যের প্রতি স্থির থাকার বার্তাও দেন।
এর আগে বুধবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মহিলা কলেজগুলির অধ্যক্ষ, উপাচার্য যোগেশ সিং এবং দিল্লি পুলিশ, পরিবহণ দফতর, পূর্ত দফতর, ডিডিএ ও দিল্লি মেট্রোর শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন এলজি। কলেজ চত্বর ও যাতায়াতের পথে মহিলা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
এলজি কলেজগুলির আশপাশে স্ট্রিট লাইটিং, সিসিটিভি নজরদারি ও পুলিশ টহল জোরদার করার পাশাপাশি প্রতিটি ক্যাম্পাসের কাছে নোডাল পুলিশ আধিকারিক এবং ‘পিঙ্ক বুথ’ রাখার নির্দেশ দেন।
বৈঠকে বিভিন্ন কলেজের পক্ষ থেকে ই-রিকশার সমস্যা, নিরাপদ লাস্ট-মাইল সংযোগের অভাব, ফুটপাত ও চলাচলের পথ দখল, অনিয়ন্ত্রিত হকার, অন্ধকার জায়গা, পর্যাপ্ত আলোর অভাব, কলেজের কাছে অনিরাপদ পার্ক, গণশৌচাগার, অশালীন ফ্ল্যাশিং এবং আরও বেশি ‘পিঙ্ক বুথ’ ও পুলিশ টহলের প্রয়োজনীয়তার মতো বিষয়গুলি তুলে ধরা হয়।
গত তিন দিনে এলজি সন্ধুর দৌলত রাম কলেজ ও ইন্দ্রপ্রস্থ কলেজে আকস্মিক পরিদর্শন এবং ২৫ সেপ্টেম্বর বোঁটা পার্কে সারপ্রাইজ ইন্সপেকশনের পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাঠপর্যায়ে মহিলা শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যাগুলি সরাসরি জানতেই ওই পরিদর্শন করা হয়েছিল।



















