নয়াদিল্লি, ১ অক্টোবর (আইএএনএস): স্বচ্ছ ভারত মিশনের ১২তম বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে দেশের বিভিন্ন শহরে স্যানিটেশন ব্যবস্থাকে আধুনিক করে তুলতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও আরও কার্যকরভাবে বর্জ্য এবং জলপথ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে এই প্রযুক্তিগুলি ব্যবহার করা হচ্ছে।
রায়পুর পুরনিগম ইউপিওয়াইওজি প্ল্যাটফর্মের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল ফিক্যাল স্লাজ ম্যানেজমেন্ট (এফএসএম) ড্যাশবোর্ডের প্রোটোটাইপ চালু করেছে। আবাসন ও নগর বিষয়ক মন্ত্রক, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব আরবান অ্যাফেয়ার্স এবং ন্যাশনাল আরবান ডিজিটাল মিশনের সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বাসিন্দারা অনলাইনে সেপটিক ট্যাঙ্ক পরিষ্কারের জন্য বুকিং করতে, ডিজিটাল পেমেন্ট করতে এবং পুরো প্রক্রিয়া ট্র্যাক করতে পারবেন।
মোবাইল নম্বর বা প্রপার্টি আইডি দেওয়ার পর সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিকানা শনাক্ত করে। চালকরা কাজ শেষ হওয়ার পর ছবি আপলোড করেন। এর ফলে পুরনিগম যানবাহনগুলির ওপর নজরদারি করতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা করতে পারে। একই সঙ্গে ম্যানুয়াল নর্দমা পরিষ্কারের পরিবর্তে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে যাওয়ার প্রক্রিয়াও জোরদার হচ্ছে।
তিরুবনন্তপুরম পুরনিগম আমাইঝানচান খাল পরিষ্কারের জন্য ‘জি-স্পাইডার’ নামে এআই-চালিত একটি রোবট ব্যবহার করছে। মেশিন ভিশন ও সেন্সর প্রযুক্তির সাহায্যে রোবটটি জমে থাকা বর্জ্য শনাক্ত করে তা অপসারণ করে। বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য, জলের প্রবাহ এবং খালের কাঠামোগত সমস্যার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি কাজ করতে পারে। বায়োমিমেটিক ক্ল ব্যবহার করে মিশ্র ও অনিয়মিত আকারের বর্জ্য সংগ্রহ করে তা সরাসরি নির্দিষ্ট সংগ্রহকারী যানবাহনে স্থানান্তর করা হয়।
এই প্রযুক্তি কর্মীদের বিষাক্ত গ্যাস, দূষিত জল এবং বিপজ্জনক বর্জ্যের সরাসরি সংস্পর্শ কমিয়ে নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। বেশি জলস্তর এবং নিরবচ্ছিন্ন জলপ্রবাহের সময়ও রোবটটি কাজ করতে পারে।
গুন্টুর শহরে ২০০টিরও বেশি বৈদ্যুতিক অটো ব্যবহার করে বাড়ি-বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিটি গাড়িতে জিপিএস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে সংগ্রহ প্রক্রিয়া রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে। উদ্যোগটির ফলে বছরে ৭১ হাজার লিটারেরও বেশি ডিজেলের প্রয়োজন কমেছে এবং ১০ বছরে প্রায় ২১ হাজার টন গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমবে বলে অনুমান করা হয়েছে।
তামিলনাড়ুর গ্রেটার চেন্নাই কর্পোরেশন ১৫টি জোনে বাড়ি-বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ৫,৪৭৮টি ব্যাটারি-চালিত ই-রিকশা মোতায়েন করেছে। প্রতিটি যান দৈনিক প্রায় ৪০ কিলোমিটার চলাচল করে এবং ডিজেলচালিত যানবাহনের বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। এই বহরের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪১ টন এবং বছরে প্রায় ১৫,১৬০ টন কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে।
মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর শহরেও মূল এলাকাগুলিতে বাড়ি-বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহের জন্য ১০০টি বৈদ্যুতিক যান মোতায়েন করা হয়েছে। ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম জিপিএস ট্র্যাকিংয়ের সাহায্যে পরিষেবার ওপর নজরদারি করা হচ্ছে।
২০১৪ সালের ২ অক্টোবর চালু হওয়া স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় শহুরে স্যানিটেশন ব্যবস্থা এখন ডিজিটাল, সেন্সর-নির্ভর এবং বৈদ্যুতিক প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে বলে সরকারি তথ্যপত্রে জানানো হয়েছে।
—আইএএনএস



















