কলকাতা, ২৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) ক্যাম্পাসে রবিবার সংঘর্ষের ঘটনায় সোমবার সকাল পর্যন্ত তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি এফআইআরের মধ্যে একটি দায়ের করেছেন অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের (এবিজিপি) সদস্যরা এবং দ্বিতীয়টি এসআরএফটিআইয়ের একাংশের ছাত্রছাত্রীরা। তৃতীয় এফআইআরটি পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে দায়ের করেছে। এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়নি।
রবিবারের সংঘর্ষের পরও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা রয়েছে। প্রায় সাত থেকে আট ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষ চলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসের বাইরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
রবিবার দুপুর ১টা নাগাদ এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে এবিজিপির একটি কর্মসূচি চলাকালীন এসএফআইয়ের একদল কর্মী সেখানে পৌঁছলে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। এসএফআই কর্মীরা অডিটোরিয়ামে ওই কর্মসূচি আয়োজন নিয়ে আয়োজকদের প্রশ্ন করেন বলে জানা গেছে।
আয়োজকদের অভিযোগ, এসএফআই কর্মীরা ভারতমাতা ও স্বামী বিবেকানন্দের ছবি এবং ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। অন্যদিকে এসএফআইয়ের দাবি, তাদের না জানিয়ে এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষ এবিজিপিকে কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি দিয়েছিল। তাঁদের আরও অভিযোগ, আয়োজকরা তাঁদের ‘মিলিট্যান্ট’ ও ‘বাংলাদেশি’ বলে মন্তব্য করেন এবং প্রতিবাদ করায় তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে এবিজিপির অভিযোগ, কোনও উস্কানি ছাড়াই এসএফআই কর্মীরা তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেন এবং ‘আজাদি’ স্লোগান দেন। এবিজিপির দাবি, অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছিল।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশকে নেতৃত্বে রেখে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশের উপস্থিতিতেও পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় এবং ছাত্রছাত্রী ও কর্মসূচির আয়োজকদের মধ্যে হাতাহাতির খবর পাওয়া যায়।
একাংশ ছাত্রছাত্রী পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, হিংসার ঘটনায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে অভিযোগকারীদের নাম ও ঠিকানা নথিভুক্ত করা হচ্ছিল। তাঁরা সম্ভাব্য হয়রানি নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে মামলা দায়েরের দাবি জানান। এই দাবিতে একদল ছাত্রছাত্রী একটি পুলিশ গাড়ির সামনে বিক্ষোভও দেখান।



















