নয়াদিল্লি, ২৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): আমলা ও সজনে বা মোরিঙ্গার অর্থনৈতিক ও পুষ্টিগত গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ঐতিহ্যবাহী এই খাদ্যপণ্যগুলি গ্রামীণ এলাকায় নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি অপুষ্টির বিরুদ্ধে লড়াইয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
রবিবার ‘মন কি বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে আমলা আচার, মোরব্বা ও রস তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। শীতকালে চ্যবনপ্রাশ তৈরিতেও আমলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে এই ফল কৃষক এবং মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করছে।
উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ের সঙ্গে আমলার দীর্ঘ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট’ বা ওডিওপি উদ্যোগের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে। জেলায় প্রায় ১০০টি স্থানীয় ইউনিট আমলা প্রক্রিয়াকরণের কাজে যুক্ত রয়েছে এবং মহিলা স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলি এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দেবগড় কামাসি গ্রামের ‘সাবিত্রী ফুলে স্বনির্ভর গোষ্ঠী’ আমলা ক্যান্ডি, মোরব্বা ও রস তৈরি করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ায় গোষ্ঠীর সদস্যদের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একইভাবে বিন্ধ্যবাসিনী স্বনির্ভর গোষ্ঠী আমলার আচার ও হজমের গুঁড়ো তৈরি করছে। এই মহিলারা প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রপাতি, ঋণের সুযোগ এবং স্থানীয় বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব ফল, ঐতিহ্যবাহী শিল্প বা বিশেষ দক্ষতা রয়েছে। ওডিওপি কর্মসূচির লক্ষ্য হল স্থানীয় পণ্যকে দেশের অন্যান্য প্রান্ত এবং আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়া। এর মাধ্যমে ‘ভোকাল ফর লোকাল’ উদ্যোগ শক্তিশালী করার পাশাপাশি আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
আগামী উৎসবের মরশুমে ‘ভোকাল ফর লোকাল’-এর চেতনা বজায় রাখার জন্যও নাগরিকদের আহ্বান জানান মোদি।
পুষ্টির প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেপ্টেম্বর মাসে অপুষ্টির বিরুদ্ধে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছত্তিশগড়ে ‘হর ঘর মুঙ্গা’ অভিযানের মাধ্যমে পরিবারগুলিকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর সজনে বা মুঙ্গা অন্তর্ভুক্ত করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
গুজরাটে মিলেটসহ অন্যান্য স্থানীয় পুষ্টিকর উপাদান দিয়ে তৈরি খাবার নিয়ে ‘ভাঙ্গি স্পর্ধা’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে দুই লক্ষেরও বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। মহারাষ্ট্রেও একই ধরনের পুষ্টিকেন্দ্রিক উদ্যোগে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ছে। মিজোরামে ‘পোষণ বাটিকা’ বা পুষ্টিবাগানের পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সম্মিলিত অভিযান শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগগুলির পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে ডিজিটাল ব্যবস্থায় আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৯ কোটি উপভোক্তার নাম অঙ্গনওয়াড়ি ব্যবস্থায় নথিভুক্ত রয়েছে। এর ফলে শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং স্তন্যদানকারী মায়েদের আরও উন্নত পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
দেশকে সম্পূর্ণ অপুষ্টিমুক্ত করতে আমলা ও সজনের মতো সাশ্রয়ী এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পুষ্টিকর খাদ্যকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।



















