আগরতলা, ২৭ সেপ্টেম্বর: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে কালীবাজারে ডিওয়াইএফআই – র অনুষ্ঠানে হামলা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট জেলার মন্ত্রী রতন লাল নাথের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, “যদি বিন্দুমাত্র লজ্জা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকে, তাহলে দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, যাতে এমন ঘটনা আর কখনও না ঘটে।” তাঁর আরও বক্তব্য, রাজ্যের শাসক দলকে মনে রাখতে হবে, মানুষ একসময় রাস্তায় নেমে এলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার সুযোগ নাও থাকতে পারে।
ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উচ্চপদস্থ আধিকারিক এবং স্থানীয় থানার ওসি উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ছবিতে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিআরপিএফ ও পুলিশকর্মীর উপস্থিতি দেখা গেছে। এত নিরাপত্তারক্ষী উপস্থিত থাকার পরেও এধরনের বিশৃঙ্খলা কিভাবে তৈরি হলো, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রসঙ্গ টেনে জিতেন্দ্র চৌধুরী কটাক্ষ করে বলেন, “জিরো টলারেন্স নয়, এখানে যেন জিরো পারফরম্যান্স দেখা যাচ্ছে।” মুখ্যমন্ত্রীর পদমর্যাদার প্রতি সম্মান রেখেই নিজের ঘোষিত নীতি বাস্তবায়নের জন্য তিনি পদক্ষেপের দাবি জানান।
এদিনের বক্তব্যে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান সাংসদ বিপ্লব কুমার দেবের একটি মন্তব্য নিয়েও কটাক্ষ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সবচেয়ে বড় সংস্কার হলো বিপ্লব কুমার দেবের মতো কিছু ব্যক্তিকে আবিষ্কার করা। এরা ফোর জি বা ফাইভ জি নন, এরা টেন জি হয়ে আছেন।”
তাঁর কথায়, অতীতের যুগে ইন্টারনেট ব্যবহারের মতো দাবি করা থেকে শুরু করে ভবিষ্যতের বহু বছর পর কী হবে, সেই বিষয়েও মন্তব্য করা যায়—এমনই ‘প্রতিভা’ রয়েছে তাঁদের।
জিতেন্দ্র চৌধুরী আরও বলেন, “নরেন্দ্র মোদির ফোর জি আবিষ্কার করা খুবই সাধারণ বিষয়। তার চেয়ে বড় কথা, বিপ্লব কুমার দেবের মতো একজন জিনিয়াস ও ট্যালেন্টেড লোককে কীভাবে আবিষ্কার করলেন, সেটাই আশ্চর্যের।” সাম্প্রতিক সময়ে ত্রিপুরায় শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই বিরোধী দলনেতার এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে বিরোধী শিবির ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, অন্যদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ওঠা অভিযোগের পাশাপাশি জিতেন্দ্র চৌধুরীর বিপ্লব কুমার দেবকে ঘিরে করা মন্তব্যও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।























