নয়াদিল্লি, ২৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর সর্বশেষ ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে চলমান জাতীয় জনগণনা প্রক্রিয়ার কথা তুলে ধরে দেশের নাগরিকদের সক্রিয়ভাবে এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জনগণনাকে ‘সম্মিলিত জাতীয় দায়িত্ব’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জনগণনার প্রথম পর্যায়ের কাজ প্রায় শেষের পথে। ইতিমধ্যেই দেশের ৩২ কোটিরও বেশি পরিবারের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ, জম্মু ও কাশ্মীর এবং উত্তরাখণ্ডের প্রত্যন্ত ও তুষারাবৃত এলাকাতেও জনগণনার কাজ এগিয়ে চলেছে বলে জানান তিনি। উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলার মানা গ্রামে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়, যেখানে দেশের প্রথম গ্রাম হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় ৮৩ বছর বয়সি পূর্ণিমা রাওয়াতের তথ্য দিয়ে কাজ শুরু হয়। অন্যদিকে, উত্তরকাশীর ভাগোরি গ্রামের হোমস্টে পরিচালনাকারী হরদেব সিং রানা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজেই তাঁর পরিবারের তথ্য নথিভুক্ত করেন।
১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে নাগরিকদের জনগণনার জন্য কিছুটা সময় দেওয়ার আহ্বানের কথা ফের স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নাগরিকরা নিজেরাই নিজেদের ও পরিবারের তথ্য জমা দিতে পারবেন। এই স্ব-নিবন্ধন পরিষেবা হিন্দিসহ ১৬টি ভাষায় চালু রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের সরকারি জনগণনা পোর্টাল ec.census.gov.in-এ গিয়ে মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর নিজেদের অবস্থান ও পরিবারের তথ্য পূরণ করে তা জমা দিতে হবে। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে এবং কোনও নথি আপলোড করার প্রয়োজন নেই। তথ্য জমা দেওয়ার পর একটি ইউনিক আইডি তৈরি হয় এবং যাচাইয়ের পর তা সরকারি জনগণনা রেকর্ডের অংশ হয়ে যায়।
তিনি জানান, ইতিমধ্যেই ২.৬ কোটিরও বেশি মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করে স্ব-নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। বাকি নাগরিকদেরও এই ডিজিটাল ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে সঠিক জাতীয় তথ্যভাণ্ডার তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনগণনা নির্ভরযোগ্য জনসংখ্যাগত তথ্য সরবরাহ করে, যা দেশের পরিকল্পনা ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্প পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশবাসীর ধারাবাহিক সহযোগিতায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলে জনগণনার কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
























