আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: ঊনকোটি জেলার কুমারঘাটে রাতভর পুলিশি অভিযানে প্রায় ৩ হাজার বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া নেশাজাতীয় সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনটি গাড়িও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কুমারঘাটের শুভদৃষ্টি হোটেলে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়। রাত প্রায় ২টা নাগাদ তাঁদের থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মাদক মজুতের বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরে জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে কুমারঘাট শহরের একটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।
পুলিশের দাবি, ওই অভিযানে একটি গাড়ি থেকে প্রায় ৩ হাজার বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি আরও দুটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তিনটি গাড়ির নম্বরপ্লেট নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া নেশাজাতীয় সামগ্রী কুমারঘাটের আশ্রমপল্লী এলাকার পিকলু বড়ুয়ার বাড়িতে মজুত রাখা হয়েছিল। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনও চলছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা পুলিশ খতিয়ে দেখছে।
ঘটনার পর কুমারঘাটে মাদক কারবার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পেঁচারথল নাকা হয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কুমারঘাটের দিকে বিভিন্ন ধরনের নেশাসামগ্রী প্রবেশ করছে। যদিও এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে।
সম্প্রতি ঊনকোটি জেলার সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা পুলিশ সুপারের কাছে ডেপুটেশন দিয়ে মাদক ও বার্মিজ সিগারেটসহ বিভিন্ন নেশাসামগ্রীর প্রবেশ রুখতে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছিল। এর পরেই এই অভিযান হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে অভিযানের সময় হোটেলে এক পৌর এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি সামনে এসেছে। এমনকি আটক ব্যক্তিদের ছাড়ানোর জন্য প্রভাবশালী মহল থেকে তদ্বিরের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগের কথা পুলিশ জানায়নি।
অন্যদিকে সম্প্রতি কুমারঘাটের এক সাংবাদিক সামাজিক মাধ্যমে একটি হোটেলে দেহব্যবসার অভিযোগ তুলেছিলেন বলে জানা গেছে। যদিও ওই পোস্টে কোনও হোটেলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বর্তমান অভিযানের পর সামাজিক মাধ্যমে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে ওই অভিযোগের সঙ্গে বৃহস্পতিবারের অভিযানের কোনও সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, তারও কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
ভোরে সাংবাদিকরা থানায় গিয়ে অভিযানের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি বলে অভিযোগ। পরে কুমারঘাট মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডেভিড দেববর্মা জানান, শুভদৃষ্টি হোটেল থেকে চারজনকে ডিটেন করা হয়েছে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রায় ৩ হাজার বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। আরও দুটি গাড়িও উদ্ধার হয়েছে বলে তিনি জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনও আটক ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
এখন তদন্তকারীদের সামনে মূল বিষয় হল উদ্ধার হওয়া ফেন্সিডিলের উৎস, তিনটি গাড়ির মালিকানা ও ব্যবহার, আটক ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং এই মাদক কারবারের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। হোটেল ও থানার সিসিটিভি ফুটেজও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা মূল্যের নেশাজাতীয় সামগ্রী উদ্ধারের এই ঘটনায় কুমারঘাটে মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত এগোলে এই চক্রের সঙ্গে আরও কারও যোগ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে।



















