আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর: নয়াদিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার উইক ২০২৬-এ উত্তর ত্রিপুরা জেলার জল সংরক্ষণে বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়েছে। টেকসই জল ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে প্রশাসন, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং বেসরকারি সংস্থাগুলির সম্মিলিত ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় এই অনুষ্ঠানে।
বৃহস্পতিবার ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ‘প্র্যাকটিশনার্স’ ফোরাম অন বেস্ট প্র্যাকটিসেস’ শীর্ষক আলোচনায় বক্তা হিসেবে অংশ নেন উত্তর ত্রিপুরার জেলাশাসক তথা জেলা শাসক চন্দনী চন্দ্রন। সেখানে তিনি জেলার বিভিন্ন এলাকায় বাস্তবায়িত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জল সংরক্ষণ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
প্রথম উদ্যোগ হিসেবে তিনি ‘উত্তর জল সঞ্চয় যাত্রা’-র কথা উল্লেখ করেন। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে নেওয়া এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জল সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করা।
এর পাশাপাশি, ভাংমুন এলাকায় বৃষ্টির জল সংরক্ষণে শতভাগ কভারেজ নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন জেলাশাসক। সম্পূর্ণ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মাধ্যমে বৃষ্টির জল সংরক্ষণের পরিকাঠামো গড়ে তোলার এই উদ্যোগকে একটি জনভিত্তিক কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
তৃতীয় উদ্যোগ হিসেবে তিনি জাম্পুই এবং দামছড়া ব্লকে বাস্তবায়িত ‘স্প্রিংশেড ম্যানেজমেন্ট’ বা ঝরনার জলাধার সংরক্ষণ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। সিএমএল এবং টাটা ট্রাস্টসের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য পাহাড়ি এলাকায় ঝরনাভিত্তিক জলসম্পদের সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।
আলোচনায় উত্তর ত্রিপুরা জেলার জল সংরক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগের বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ এবং বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতাকে একত্রিত করে দীর্ঘমেয়াদি জল সংরক্ষণের লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জল সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নিশ্চিত করতে সরকার, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং বেসরকারি সংস্থাগুলির মধ্যে ধারাবাহিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার উইকের মঞ্চে উত্তর ত্রিপুরার এই উদ্যোগগুলির উপস্থাপন জেলার জল সংরক্ষণে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে জাতীয় স্তরে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



















