জয়পুর, ২৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজস্থানের যোধপুরের বাসনি এলাকায় হস্তশিল্পের একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সময় রাসায়নিক ভর্তি ড্রামে বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৪ জন দমকলকর্মী দগ্ধ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজনের অবস্থা সংকটজনক। তিনজনকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছে। এছাড়া কারখানার দুই কর্মীও দগ্ধ হয়েছেন এবং তাঁদের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে।
আহত ১৪ জন দমকলকর্মীকেই মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পৃথক আইসিইউর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ গণেশ নগর শ্রমিক কলোনিতে অবস্থিত ওই কারখানায় আগুন লাগে। প্রায় ১২ ঘণ্টার চেষ্টার পর বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে সকাল ৭টা নাগাদ ফের আগুন জ্বলে ওঠে। এরপর দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে ফিরে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সকাল ১১টা পর্যন্ত কারখানা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর কাজ করার সময় কারখানার ছাদ থেকে একটি পাথর পড়ে ফেনল ভর্তি একটি ড্রামের উপর পড়ে বলে জানা গিয়েছে। এরপরই শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। কারখানায় রাসায়নিক ভর্তি ড্রাম এবং থিনার মজুত থাকায় পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। আগুনের মধ্যে একাধিক ড্রাম বিস্ফোরিত হয় এবং জ্বলন্ত রাসায়নিক প্রায় ৩০০ মিটার দূর পর্যন্ত ছিটকে গিয়ে কাছাকাছি থাকা দমকলকর্মীদের আহত করে।
প্রায় ৩৫ জন দমকলকর্মী আগুন নেভানোর কাজে যুক্ত ছিলেন। আগুন লাগার খবর পেয়ে বিভিন্ন দমকলকেন্দ্র থেকে ১০টি দমকলের ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের চিফ ফায়ার অফিসার জলজ ঘাসিয়া।
ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুল্যান্স না থাকায় আহত দমকলকর্মীদের সহকর্মীরা দমকলের গাড়ি এবং পিকআপ ভ্যানে করে এইমস যোধপুরে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের মহাত্মা গান্ধী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। এইমস-এ পৃথক বার্ন ইউনিট না থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আগুনের তীব্রতার কারণে বুধবার রাত ১১টার পর ভারতীয় বায়ুসেনার দমকল দলকেও ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। যোধপুরের পুলিশ কমিশনার অংশুমান ভোমিয়া জানান, ওই হস্তশিল্প কারখানায় দাহ্য রাসায়নিক এবং থিনার ব্যবহার করা হচ্ছিল। আহত ১৪ দমকলকর্মীর মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং তিনজন ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রয়েছেন। কারখানার দুই কর্মীর শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছে বলেও তিনি জানান।
বাসনি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) নীতিন দাভে জানান, চিফ ফায়ার অফিসারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। কারখানার মালিক রাজেন্দ্র আগরওয়ালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলবের চেষ্টা চলছে।
এদিকে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের একটি দল কারখানাটির কার্যকলাপ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে পাঠিয়েছে। কারখানায় কীভাবে রাসায়নিক মজুত করা হচ্ছিল এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে কারখানাটি পরিচালিত হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সুরসাগরের বিধায়ক দেবেন্দ্র যোশী। তিনি বলেন, আবাসিক এলাকায় এই ধরনের কারখানা পরিচালনা রাজস্থান প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা এড়ানো যায়, সে জন্য প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এবং এলাকায় সমীক্ষার দাবি জানাবেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারাও কারখানাটির কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শ্রমিক কলোনির এক বাসিন্দার দাবি, এর আগে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রশাসনের তদন্তে কারখানাটির অনুমোদন, রাসায়নিক মজুতের পদ্ধতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কীভাবে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল—এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
—আইএএনএস



















