আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর: ২০২৪ সালে টেট-১ ও টেট-২ উত্তীর্ণ ১,৮৫৬ জন চাকরিপ্রার্থীর একসঙ্গে নিয়োগের দাবিতে বৃহস্পতিবার ফের বিক্ষোভে নামলেন বেকার যুবক-যুবতীরা। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকার অভিযোগ তুলে জেআরবিটি বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত নিয়োগের দাবি জানান তাঁরা। তবে বিক্ষোভ ঘিরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের উপর জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ লাইনে নিয়ে যাওয়া হয়।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, ২০২৪ সালে টেট-১ ও টেট-২ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে সরকার নির্ধারিত জিটি ও ইউটি পদে নিয়োগের জন্য তাঁরা আবেদন করেন। প্রায় ১,৮৫৬ জন প্রার্থীর নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ।
নিয়োগের দাবিতে একাধিকবার জেআরবিটির কাছে আবেদন জানানো হলেও সমস্যার কোনও সন্তোষজনক সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের। এদিন ফের জেআরবিটি বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করতে যান তাঁরা। তাঁদের দাবি, কোনও বাছাই নয়, ২০২৪ সালের টেট-১ ও টেট-২ উত্তীর্ণ সকল ১,৮৫৬ জনকেই একযোগে নিয়োগ করতে হবে।
চাকরিপ্রার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করলেও এখনও তাঁদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ মেলেনি। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ না হওয়ায় আর্থিক ও মানসিক সমস্যার মধ্যে রয়েছেন বলেও দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
এদিন নিজেদের দাবি নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন চাকরিপ্রার্থীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একসময় পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলে অভিযোগ। এরপর বিক্ষোভরত টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতার করে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁদের আগরতলার এডি নগর পুলিশ লাইন মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা যায়।
ঘটনার পর চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে নিয়োগের দাবি জানিয়ে আসার পরও তাঁদের দাবি পূরণ করা হয়নি। দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সকল যোগ্য প্রার্থীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তাঁরা।
পাশাপাশি, অবিলম্বে সমস্যার সমাধান না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। প্রয়োজনে গণঅবস্থান থেকে শুরু করে অনশন কর্মসূচিতেও যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।



















