পাটনা, ২৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিহারের মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব বুধবার বলেছেন, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এমন কোনও কার্যকলাপ বরদাস্ত করবে না রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে তিনি জানান, মহিলাদের নিরাপত্তা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বিহারের জামুই জেলায় এক নাবালিকাকে হেনস্থার অভিযোগ এবং তার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই মন্ত্রীর এই মন্তব্য সামনে এসেছে।
মহিলাদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে রাম কৃপাল যাদব বলেন, “সমাজে যারা বিশৃঙ্খলা তৈরি করে, সরকার তাদের কোনওভাবেই বরদাস্ত করবে না। বিশেষ করে মহিলাদের নিরাপত্তা যখন সরকারের অগ্রাধিকার। মহিলাদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না—এটাই সরকারের প্রতিশ্রুতি এবং সেই অনুযায়ী সরকার কাজ করছে। গতকাল আপনারা তার ফল দেখেছেন।”
তিনি আরও বলেন, “যে কেউ কোনও মহিলাকে হেনস্থা করবে, তাকে রেয়াত করা হবে না। এখনও পর্যন্ত অর্ধেক এনকাউন্টার হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও কিছু হতে পারে। তাই যারা এই ধরনের কাজে যুক্ত, তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।”
জামুই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গেই মন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। পুলিশের দাবি, মামলায় মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদব-সহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
নন্দন যাদবকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার সকালে তাকে এবং আর এক অভিযুক্ত হরেরাম যাদবকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। পুলিশের দাবি, সেখানে দু’জন হেফাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করে। এরপর তাদের ধরতে পুলিশ পদক্ষেপ করে।
পুলিশের দাবি, ধাওয়া করার সময় নন্দন যাদবের পায়ে গুলি লাগে। হরেরাম যাদব পড়ে গিয়ে পায়ে চোট পান বলে জানা গিয়েছে। পরে দু’জনকেই চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিহারে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছেন বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব।
মঙ্গলবার তেজস্বী যাদব মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর পদত্যাগ দাবি করে অভিযোগ করেন, এই ঘটনা প্রমাণ করছে যে রাজ্যে কোথাও মহিলারা ও মেয়েরা নিরাপদ নন।
তেজস্বীর বক্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী চৌবে। সরকারের সমালোচনার জন্য তেজস্বীকে নিশানা করে তিনি তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিহারের প্রাক্তন সরকারের সময়কে বিরোধীদের ব্যবহৃত ‘জঙ্গলরাজ’ শব্দের প্রসঙ্গ টেনে আনেন।
জামুইয়ের এই ঘটনা এখন বিহারে আইনশৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সরকার অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশের পদক্ষেপকে তুলে ধরছে, অন্যদিকে বিরোধীরা রাজ্যে মহিলা ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
—আইএএনএস



















