কলকাতা, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দক্ষিণ কলকাতার উপকণ্ঠে পশ্চিমবঙ্গের ভাঙড়ে একটি কলেজ চত্বরে সম্প্রতি দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় মঙ্গলবার সকালে পৃথক দুটি মামলায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ।
গ্রেফতার হওয়া চারজন হলেন রাবিউল জামা শেখ, আখতার আলি মোল্লা, রাবিউল মিস্ত্রি এবং আসলাম হাবিব। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত ভাঙড় আগে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আওতায় ছিল। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আগের মেয়াদের শেষ দিকে ভাঙড়ের আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত দায়িত্ব কলকাতা পুলিশের হাতে দেওয়া হয়।
ভাঙড় কলেজে উত্তেজনার সূত্রপাত হয় কলেজের পরিচালন কমিটির সভাপতি তথা রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র সায়ন্তন বসু প্রশাসনিক কাজের জন্য কলেজ চত্বরে গেলে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত ওই কলেজে তাঁর উপস্থিতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে সিপিআই(এম)-এর ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই)-এর কর্মীরা।
এরপর অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর কর্মীরাও কলেজ চত্বরে পৌঁছন। দুই ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে বচসা এবং পরে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। সংঘর্ষের জেরে কলেজ চত্বরে দুই দফায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে চারজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা গেছে, ভাঙড় থানায় পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার ভিত্তিতে রাবিউল মিস্ত্রি ও রাবিউল জামা শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি জমায়েত, কলেজে বেআইনিভাবে প্রবেশ এবং পরিচালন কমিটির সভাপতির কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, এবিভিপির একাংশের কর্মীরাও ভাঙড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পৃথক একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই মামলায় আখতার আলি মোল্লা এবং আসলাম হাবিবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
চারজনকেই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার একটি আদালতে পেশ করা হবে। তাঁদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে সরকারি পক্ষ।
সোমবারের সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভাঙড় কলেজের সামনে পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে। নতুন করে যাতে কোনও অশান্তি না ছড়ায়, সেজন্য পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে পুলিশ।
—আইএএনএস



















