আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্ব যে সমস্ত এলাকায় সিপিআই(এম) বা কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, সেখানে তিপরা মথাকে সমর্থন করবে বিজেপি। আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানিয়েছেন মন্ত্রী রতন লাল নাথ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের রণকৌশল প্রসঙ্গে মন্ত্রী রতন লাল নাথবলেন, রাজ্যবিরোধী মতাদর্শের প্রতিনিধিদের কোনওভাবেই রাজনৈতিক জমি দখল করতে দেওয়া হবে না। তিনি জানান, যেসব আসনে তিপরা মথার সঙ্গে সিপিআই(এম) বা কংগ্রেসের সরাসরি লড়াই রয়েছে, সেখানে বিজেপির ভোটারদের মথাকে সমর্থন করার জন্য দলীয়ভাবে কৌশল নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, যেখানে মথার সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে, অথবা যেখানে সিপিএম কিংবা কংগ্রেস রয়েছে, সেখানে আমরা কৌশল তৈরি করব, যাতে আমাদের ভোটাররা তিপরা মথাকে সমর্থন করেন।
পাশাপাশি তিনি জানান, যে কয়েকটি আসনে বিজেপির সঙ্গে সিপিআই(এম)-এর সরাসরি লড়াই রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে মথাও তাদের সমর্থকদের সিপিএম বা কংগ্রেসকে ভোট না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
তবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল যে ভোটাররাই নির্ধারণ করবেন, তা স্বীকার করেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে রাজ্যে সিপিআই(এম) ও কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল এবং তারা বড় ধরনের নির্বাচনী সাফল্য পাওয়ার মতো অবস্থায় নেই।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল বা টিটিএএডিসি নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বিরোধী দলগুলি একটি আসনও জিততে পারেনি। তাঁর দাবি, এর মধ্য দিয়ে তৃণমূল স্তরে ওই দলগুলির সাংগঠনিক উপস্থিতি কতটা কমেছে, তার প্রতিফলন ঘটেছে।
বিরোধীদের জন্য নির্বাচনী পরিবেশ প্রতিকূল হতে পারে বলে যে দাবি উঠছে, তাও খারিজ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচনে সাফল্যের জন্য মানুষের সমর্থনের পাশাপাশি শক্তিশালী সংগঠন ও কর্মীভিত্তি গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী বলেন, মানুষ যদি আপনার সঙ্গে থাকে, তাহলে প্রশাসন আপনাকে আটকাতে পারবে না। নিজের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, পূর্ববর্তী সিপিএম সরকারের সময়ও তিনি পঞ্চায়েত নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, তরুণ ভোটারদের মধ্যে বিরোধী দলগুলির সমর্থন সীমিত এবং তারা মূলত কিছু পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী কর্মী-সমর্থকের উপর নির্ভরশীল। তাঁর বক্তব্য, বছরের পর বছর রাজ্যের মানুষ বিভিন্ন সরকারকে দেখেছেন। এবার বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের কাজকর্মও জনগণ বিচার করবেন।
তবে একইসঙ্গে তিনি বলেন, বিজেপি, মথা কিংবা আইপিএফটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করতে না পারলে জনগণ তাদেরও সরিয়ে দিতে পারেন। তাঁর কথায়, বর্তমানে বিরোধী দলগুলি এখনও এমন অবস্থানে পৌঁছয়নি, যেখান থেকে তারা বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে কার্যকরভাবে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে।


















