নয়াদিল্লি, ২১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিহারের জামুই জেলায় দুই দশম শ্রেণির পড়ুয়াকে হেনস্থা ও এক ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগের ঘটনায় সোমবার সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে দেরি নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি জনসমক্ষে মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ রাহুল গান্ধী লেখেন, জামুইয়ের ভিডিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর দাবি, দুই দশম শ্রেণির পড়ুয়াকে রাস্তায় আটক করে হেনস্থা, অপমান এবং যৌন নিগ্রহ করা হয়েছে। এক তরুণী হাতজোড় করে ছেড়ে দেওয়ার আবেদন করলেও তাঁকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাহুল গান্ধী প্রশ্ন তোলেন, “এইভাবে আচরণ করার অধিকার এই পুরুষদের কে দিয়েছে?” তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের আচরণকে ‘সংস্কৃতি’ বলা যায় না। এটি এমন একটি পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ, যেখানে কোনও পুরুষ একটি মেয়ের শরীর, চলাফেরা ও পছন্দ নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার নিজের বলে মনে করে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই ধরনের মানসিকতাকে ‘অন্ধভক্তরা’ স্বাভাবিক করে তুললে জনতা নিজেদেরই আইনের ঊর্ধ্বে মনে করতে শুরু করে।
রাহুল গান্ধী বলেন, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে পকসো আইনে বিচার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ১৯ সেপ্টেম্বর ঘটনা ঘটে থাকলে অভিযুক্তরা এখনও কেন জেলের বাইরে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। পাশাপাশি সন্ধ্যা ৭টার সময় একটি জনবহুল রাস্তায় একটি মেয়ে কেন নিরাপদ নয়, তা নিয়ে বিহার সরকারকে জবাবদিহি করার দাবি জানান।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। ভিডিওতে জামুই শহরের একটি বেসরকারি স্কুলের দশম শ্রেণির পড়ুয়া বলে দাবি করা এক তরুণ-তরুণীকে কোচিং থেকে স্কুটারে বাড়ি ফেরার পথে একদল লোক আটক করে হেনস্থা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এক আধিকারিকের মতে, জামুই ও লখিসরাইয়ের সীমানা এলাকায়, জামুই টাউন থানার আওতাধীন এলাকার কাছাকাছি ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
ভিডিওতে একদল ব্যক্তিকে দুই পড়ুয়াকে থামাতে এবং তরুণীকে হেনস্থা করতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এক পর্যায়ে এক ব্যক্তি তরুণীর গলা ধরে তাঁকে মাটি থেকে তুলে ধরে বলেও ভিডিওতে দেখা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তরুণটি তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে দু’পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং তরুণটিকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনার একটি ভিডিও উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ রেকর্ড করে পরে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় বলে জানা গিয়েছে। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং ঘটনার সঠিক পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি নিয়ে জামুই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভিডিওটি পরীক্ষা করে ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
সাইবার ডিএসপি অভিষেক কুমার জানান, পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি জামুই ও লখিসরাইয়ের সীমানা এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্ত শেষ হলেই ঘটনার সঠিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য তথ্য স্পষ্ট হবে বলে তিনি জানান।
আইএএনএস



















