কৈলাসহর, ২০ সেপ্টেম্বর: ঊনকোটি জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ভোটার তালিকা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং কয়েকজন আইনজীবীর নাম বাদ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আইনজীবীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোটার তালিকায় সদস্য সংখ্যা ছিল ৭৮ জন। পরবর্তীতে প্রকাশিত তালিকায় সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৬৭ জনে। ফলে ১১ জন আইনজীবীর নাম কেন ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই বিষয়গুলি নিয়ে ঊনকোটি জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিজেপির ল অ্যান্ড লিগ্যাল অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের ঊনকোটি জেলা কনভেনর আইনজীবী সন্দীপ দেবরায়। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী কঙ্কন দেবত্রাতা, সুনির্মল দেব-সহ অন্যান্যরা।
সাংবাদিক বৈঠকে সন্দীপ দেবরায় দাবি করেন, সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে ঊনকোটি জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন সঠিক নয়। ওই প্রতিবেদনে বাম-কংগ্রেস সমর্থিত প্যানেল বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছে এবং বিজেপি লিগ্যাল সেল প্রার্থী দিতে পারেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, বার অ্যাসোসিয়েশন কোনও রাজনৈতিক দলের সংগঠন নয়। আইনজীবীদের ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু বার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাচনকে সরাসরি রাজনৈতিক দলের নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক নয়।
সাংবাদিক বৈঠকে ভোটার তালিকা নিয়েই মূল প্রশ্ন তোলেন সন্দীপ দেবরায়। তাঁর দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঊনকোটি জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের ভোটার তালিকায় সদস্য ছিলেন ৭৮ জন। পরবর্তীতে প্রকাশিত তালিকায় সেই সংখ্যা কমে ৬৭ জন হয়েছে। ফলে ১১ জন আইনজীবীর নাম কেন বাদ পড়ল, সেই প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তিনি।
সন্দীপ দেবরায়ের অভিযোগ, বাদ পড়া কয়েকজন আইনজীবী ওয়ান স্টপ সেন্টার, চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইনি সহায়তা প্রদানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর দাবি, এসব কাজ তাঁদের স্থায়ী সরকারি চাকরি নয়। নির্দিষ্ট কাজ এবং ওয়ার্ক রিপোর্টের ভিত্তিতে তাঁরা পারিশ্রমিক পান।
এই ধরনের কাজে যুক্ত কয়েকজন আইনজীবীর নাম কীভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে একটি ‘টেকনিক্যাল’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, যার ফলে নির্দিষ্ট কয়েকজন আইনজীবী ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
আইনজীবীদের একাংশের অভিযোগ, বিষয়টি শুধুমাত্র সাধারণ প্রক্রিয়াগত কারণে হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাঁদের দাবি, ভোটার তালিকা প্রস্তুতি, নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ এবং দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন আয়োজন—এই সমস্ত বিষয়ই স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন।
তবে এসব অভিযোগ ও দাবির বিষয়ে বার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে ওঠা প্রশ্নগুলির নিষ্পত্তি কীভাবে হয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে।























