আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর: ইউপিআই লেনদেনে নতুন মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত, নোটবন্দি, জিএসটি, মূল্যবৃদ্ধি এবং ত্রিপুরায় সরকারি নীতির সমালোচনা করে দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। শনিবার প্রকাশিত এই বিবৃতিতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরে সংগঠনটি।
প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তীর স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, মোদি সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্প ও নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। আধুনিক ও উন্নত ভারতের স্বপ্ন দেখানোর পাশাপাশি বাস্তবে সাধারণ মানুষের ব্যয় বৃদ্ধির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে ইউপিআই-তে নতুন এমডিআর চালুর বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে ঘোষিত কাঠামো অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে ২,০০০ টাকার বেশি ইউপিআই পেমেন্টে ০.৪ শতাংশ এমডিআর প্রযোজ্য হবে এবং ৭৫,০০০ টাকা বা তার বেশি লেনদেনে তা সর্বোচ্চ ৩০০ টাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে। রেল, টেলিকম, জ্বালানি ও বিমার মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ৫ টাকা ফ্ল্যাট এমডিআর থাকবে। এই চার্জ মার্চেন্টের উপর প্রযোজ্য হবে এবং গ্রাহকের কাছ থেকে সরাসরি নেওয়ার কথা নয়।
এই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রশ্ন, অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা শেষ পর্যন্ত কার উপর পড়বে। সংগঠনের দাবি, সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী এর দায় ব্যবসায়ী ও সংস্থাগুলির হলেও অতীতের অভিজ্ঞতায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ব্যয়ের পরোক্ষ প্রভাব সাধারণ গ্রাহকদের উপর পড়েছে। তবে নতুন ইউপিআই কাঠামোতে মার্চেন্টদের কাছ থেকে নেওয়া এমডিআর গ্রাহকের উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না বলে সরকারি ও এনপিসিআই-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
নোটবন্দি প্রসঙ্গেও কেন্দ্রের সমালোচনা করেছে প্রদেশ কংগ্রেস। তাদের অভিযোগ, নোটবন্দির ফলে সাধারণ মানুষকে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছিল। পাশাপাশি কালো টাকা ও জাল নোট উদ্ধারের লক্ষ্য কতটা পূরণ হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ডিজিটাল লেনদেনের প্রসঙ্গে বিবৃতিতে সাইবার জালিয়াতির বিষয়টি তুলে ধরে আমানতকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করার পাশাপাশি গ্রাহকদের সুরক্ষায় আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
জিএসটি নিয়েও সরব হয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। সংগঠনের অভিযোগ, জিএসটি চালুর পর ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের উপর পড়েছে। খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ও প্যাকেটজাত পণ্যে প্রকৃত পরিমাণ কমে যাওয়ার অভিযোগও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে।
ত্রিপুরার প্রসঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, আসন্ন ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে মূল্যবৃদ্ধি এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি-সহ বিভিন্ন জনসমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও উৎসবে সরকারি অর্থ ব্যয়ের সমালোচনা করা হয়েছে। রেশন ব্যবস্থায় খাদ্যসামগ্রীর পরিমাণ ও ভর্তুকি কমানোর অভিযোগও তুলেছে দলটি।
বিবৃতির শেষাংশে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র, তরুণ, যুবসমাজসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে তাদের কথিত ‘পরিবর্তনের প্রক্রিয়া’কে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী।























