আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর: বন্যহাতির তাণ্ডবে জুমচাষ ও বিভিন্ন কৃষিজ ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে সমস্যায় পড়েছেন জোলাইবাড়ি বিধানসভা এলাকার কোয়াইফাংয়ের অবিরাম পাড়ার জুমচাষিরা। রবিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করলেন রাজ্যের মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া।
এদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বন দপ্তর, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরিদর্শনের সময় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যার বিষয়েও খোঁজখবর নেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোয়াইফাংয়ের অবিরাম পাড়ার বাসিন্দা সৈত্যমোহন ত্রিপুরা জুমচাষ শেষে ওই এলাকায় একটি প্লাম ওয়েল স্থাপন করেছিলেন। সম্প্রতি বন্যহাতির আক্রমণে প্লাম ওয়েলটির পাশাপাশি জুমচাষের জমি এবং বিভিন্ন কৃষিজ ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়াও হাতির তাণ্ডবে সুপারি গাছ, টং ঘরসহ বিভিন্ন গাছপালা এবং কৃষিজ ফসল নষ্ট হয়েছে বলে জানা যায়। ক্ষয়ক্ষতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা আর্থিক সমস্যার মুখে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, বন্যহাতির আক্রমণে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ ও সহায়তার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, জুমচাষের পাশাপাশি হাতির আক্রমণে বিভিন্ন গাছপালা ও কৃষিজ ফসলেরও ক্ষতি হয়েছে। বিষয়টি রাজ্যের বন দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার সঙ্গে আলোচনা করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া কৃষি দপ্তরের মাধ্যমে চাষ করা কলাগাছও বন্যহাতির আক্রমণে নষ্ট হয়েছে বলে জানান তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত কলাচাষিদের পাশে দাঁড়ানোর বিষয়টি কৃষি দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী। বন্যহাতির তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা।
























