ফাজিলকা (পাঞ্জাব), ২০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বিজেপির ‘নেশামুক্ত পাঞ্জাব যাত্রা’কে সামাজিক সংস্কারের আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। রবিবার ফাজিলকার ওল্ড ভেজিটেবল মার্কেট থেকে তৃতীয় ‘নেশামুক্ত পাঞ্জাব যাত্রা’র সূচনার আগে এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই অভিযানের লক্ষ্য পাঞ্জাবের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক থেকে রক্ষা করা এবং রাজ্যকে একটি উন্নত রাজ্যে পরিণত করার পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
জনসভায় বক্তব্য রাখার আগে মেঘওয়াল আসাফওয়ালা শহিদি স্মারকে যান এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করা সেনাদের প্রতি পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা পাঞ্জাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সতীশ পুনিয়া, রাজ্য সভাপতি কেওয়াল সিং ধিলোঁ, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুনীল জাখড় এবং প্রাক্তন মন্ত্রী সুরজিৎ কুমার জিয়ানি।
মেঘওয়াল বলেন, কেউ কেউ রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই যাত্রাকে দেখছেন। কিন্তু এটি কোনও রাজনৈতিক প্রচার নয়, বরং সামাজিক সংস্কারের একটি উদ্যোগ। বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার শুধু সরকারি কর্মসূচি পরিচালনা করে না, সামাজিক সংস্কারের লক্ষ্যেও বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে বলে তিনি দাবি করেন। ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ এবং ‘এক পেড় মা কে নাম’-এর মতো প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
মাদকের ক্ষতিকর প্রভাবের প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহিবে গুরু অমর দাসের বাণীর উল্লেখ করে বলেন, এমন কোনও বস্তু থেকে মানুষকে দূরে থাকা উচিত, যার সেবন মানুষের মন, বুদ্ধি ও বিচারবোধকে প্রভাবিত করে।
গুরু নানক দেবের বাণীতে ‘নাম সিমরণ’-এর গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন মেঘওয়াল। তাঁর বক্তব্য, মানুষের বিচারবোধ অটুট থাকলেই প্রকৃত অর্থে নাম সিমরণে মনোনিবেশ করা সম্ভব। সেই কারণেই মানুষকে নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। অনুষ্ঠানে তিনি গুরু নানক দেবের একটি শবদও পরিবেশন করেন, যা উপস্থিত মানুষের প্রশংসা পায়।
মেঘওয়াল বলেন, মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরির বার্তা শিখ গুরুদের পাশাপাশি ভক্ত কবীর দাস ও গুরু রবিদাসের বাণীতেও পাওয়া যায়। সামাজিক ও আধ্যাত্মিক সচেতনতার সঙ্গে নেশামুক্ত পাঞ্জাবের প্রচারকে যুক্ত করলেই মানুষকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে থাকার জন্য অনুপ্রাণিত করা সম্ভব বলে তিনি জানান। এটিই বিজেপির ‘নেশামুক্ত পাঞ্জাব যাত্রা’র উদ্দেশ্য বলেও দাবি করেন তিনি।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি ধিলোঁ বলেন, যারা পাঞ্জাবে মাদকের সমস্যা ছড়িয়েছে, তারা বিজেপির ‘নেশামুক্ত পাঞ্জাব যাত্রা’ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। এই যাত্রার কারণে মুখ্যমন্ত্রীকে চাপে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সাংরুরের মোহনজিৎ শেরন ও গুলজার সিংয়ের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলির উল্লেখ করে ধিলোঁ অভিযোগ করেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরব হওয়া কণ্ঠস্বরকে দমন করছে সরকার। তাঁর দাবি, পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ফরিদকোটের বাসিন্দাদের একাংশ বাড়ির বাইরে ‘বিক্রয়ের জন্য বাড়ি’ লেখা বোর্ড লাগাচ্ছেন।
ধিলোঁ আরও বলেন, বিজেপি উত্তরপ্রদেশে গ্যাংস্টার-সংক্রান্ত অপরাধ, ঝাড়খণ্ডে নকশালবাদ এবং ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর কাশ্মীরে হিংসার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে বলে দল দাবি করে। তাহলে পাঞ্জাব থেকেও মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয় কেন—এই প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিজেপি প্রতিশ্রুতি পূরণে নিজেদের রেকর্ডের কথাও তুলে ধরেন রাজ্য সভাপতি।
প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুনীল জাখড় বলেন, এতদিন মাদক সেবনের কারণে মানুষের মৃত্যু ঘটছিল, কিন্তু এখন মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণেও অনেকে প্রাণ হারাচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, মাদক পাচারকারীদের হাতে কেউ কেউ নিহত হচ্ছেন, আবার কেউ প্রশ্ন তোলার কারণে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আক্রমণ করে জাখড় দাবি করেন, ৭৯ হাজার গ্রেফতার কোনও সাহসিকতার প্রমাণ নয়; বরং এর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম কতটা মাদক সংকটের মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, তারই প্রমাণ মিলছে।
—আইএএনএস



















