কলকাতা, ১৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে শুক্রবার একটি পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের এক আধিকারিক তাঁর গ্রেফতারের কথা নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, একটি পুরনো খুনের মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন মিলন প্রধান। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই শুক্রবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে কংগ্রেস প্রার্থীর গ্রেফতারির ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, শুক্রবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা দে প্রধান মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন এবং পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন।
মিলন প্রধানের গ্রেফতারির পর প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে, বিরোধীদের নির্বাচনী ময়দান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার দাবি করেন, মিলনের বিরুদ্ধে হঠাৎ করে মামলা করা হয় এবং এরপরই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এর পিছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে।
তবে কংগ্রেসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপির পূর্ব মেদিনীপুর জেলা নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্য, মিলন প্রধানের গ্রেফতারের সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই এবং বিষয়টি পুলিশের আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।
নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ৬ অক্টোবর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ভোটের ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর, দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। পরে তিনি ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।
নন্দীগ্রামে বিজেপি হসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে। তিনি শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের মা। চলতি বছরের ৬ মে উত্তর ২৪ পরগনায় চন্দ্রনাথ রথ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তাঁর মায়ের প্রার্থী হওয়ায় নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে বিষয়টি প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।



















