নয়াদিল্লি, ১৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): সেমিকন্ডাক্টর ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপের পথে এগোচ্ছে ভারত। ২০২১ সালে দেশে কোনও বাণিজ্যিক চিপ উৎপাদন কেন্দ্র ছিল না। আর ২০২৬ সালে এসে ১২টি ইউনিট অনুমোদন পেয়েছে এবং এর মধ্যে পাঁচটি উৎপাদন শুরু করেছে। দেশের শত শত কলেজের পড়ুয়ারাও এখন চিপ ডিজাইনের কাজে যুক্ত হচ্ছেন। এই পরিকাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই ‘সেমিকন ২.০’ ভারতের সেমিকন্ডাক্টর যাত্রার পরবর্তী অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে বলে বুধবার ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৬’ উপলক্ষে প্রকাশিত সরকারি তথ্যপত্রে জানানো হয়েছে।
স্মার্টফোন, কম্পিউটার, চিকিৎসা সরঞ্জাম, গাড়ি, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপগ্রহ এবং ডেটা সেন্টার—আধুনিক ইলেকট্রনিক ব্যবস্থার মূল ভিত্তি সেমিকন্ডাক্টর। ফলে প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং জাতীয় আত্মনির্ভরতার জন্য শক্তিশালী সেমিকন্ডাক্টর শিল্প গড়ে তোলা গুরুত্বপূর্ণ বলে সরকারি তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘সেমিকন ১.০’-এর সফল বাস্তবায়নের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই ‘সেমিকন ২.০’ অনুমোদন করে। এর জন্য ১ লক্ষ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ভারতে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ভিত্তি তৈরি করা হলেও দ্বিতীয় পর্যায়ে গবেষণা ও উন্নয়ন, চিপ ডিজাইন, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল, নতুন ফ্যাব স্থাপন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং ATMP/OSAT শিল্পকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সেমিকন্ডাক্টরের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ২০৩০ অর্থবর্ষের মধ্যে এই বাজারের আকার ১১০ বিলিয়ন ডলারে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, দেশে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ২০১৬-১৭ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ পর্যন্ত ভারত প্রায় ১৫০ বিলিয়ন ডলারের সেমিকন্ডাক্টর পণ্য আমদানি করেছে। ওই সময় আমদানির বার্ষিক বৃদ্ধির যৌগিক হার ছিল ২৩ শতাংশ। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে বার্ষিক আমদানি ২৪০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে বলে তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘সেমিকন ২.০’-এর মূল লক্ষ্য শুধু চিপ উৎপাদনের শেষ পর্যায়কে শক্তিশালী করা নয়, বরং দেশে সম্পূর্ণ সেমিকন্ডাক্টর ভ্যালু চেইন গড়ে তোলা। এর মধ্যে চিপ ডিজাইন, যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, নতুন ফ্যাব, উন্নত প্যাকেজিং, গবেষণা এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর বাজার ২০১৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গড়ে ৬.৫ শতাংশ হারে বেড়েছে। আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে এই বাজারের বৃদ্ধির হার ৮.৫ শতাংশ হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সরবরাহ-ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বিশ্বজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ ব্যবস্থার নির্ভরতার ঝুঁকিও সামনে এনেছে।
সরকারি তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, চিপ উৎপাদন বিশ্বের অন্যতম জটিল শিল্প। এই ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নির্ভুলতা এবং ধারাবাহিক নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। ‘সেমিকন ২.০’-এর মাধ্যমে সেই দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে দেশে আরও বেশি ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে, গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও ব্যবস্থায় বিদেশি সরবরাহ-শৃঙ্খলের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং তরুণ প্রকৌশলীদের জন্য উচ্চমূল্যের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে বলে সরকারি তথ্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
—আইএএনএস



















